দক্ষিণ সমুদ্রের দেশ ভারত মহাসাগরের জলবেষ্টিত ভূভাগ রাবণভূমি(?) শ্রীলঙ্কা আমাদের প্রতিবেশী দেশ। জনতার ক্রোধে আক্রোশে জ্বলছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা!
এখনো বোঝো কি আমার স্বদেশ?
পদ্মফুলের পাপড়ি একটার পর একটা ঝরে যায়
তুচ্ছ ঘাসফুল উড়ে যাবে এক লহমায়!
অগ্নিগর্ভ শ্রীলঙ্কা, মানুষের জয় লেখে ইতিহাস তার নিজের পাতায়

লঙ্কা দহন
তমাল সাহা

এক)

মহাভারত ভুল!
আমি বিশ্বাস করি না এক রত্তি
এতে আমার সম্পূর্ণ আপত্তি।

লঙ্কাদহন হয়েছিল এখনো হয়
একবিংশ শতাব্দীতে আবার দাহকার্য চলে
প্রত্যক্ষ করি– দুরন্ত এই সময়।

দুই)

সবাই জানে আগুন জলকে ভয় পায়।
দক্ষিণে বিশাল সমুদ্র
জল নির্বাপনের ক্ষমতা হারায়–
শ্রীলঙ্কা দ্বীপ দাউ দাউ জ্বলে যায়।
তাহলে লঙ্কাদহন নিশ্চিত হয়েছিল একদিন
এসবই সত্যি!
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পলায়নপর্ব দেখি
আগুন হাতে মানুষ, জনতাই শক্তি।

তিন)

চতুর্দিকে জল মধ্যভাগে দ্বীপ
তবুও নেভেনা আগুন
এ আগুন হবেনা নিষ্প্রদীপ।
ক্ষমতার দম্ভ কি শেষ কথা বলে?
আগুন হাতে মানুষ, মানুষের হাতে আগুন
এ কোন নির্ভীক চেতনা, শাসকের বিপ্রতীপ!

চার)

কার্তুজ সাঁজোয়া গাড়ি সেনা জলকামান
তুচ্ছ! সব তুচ্ছ!
শাসকের আত্মহত্যা দেখো, জনতাই অস্ত্র।
পথে পথে বিদ্রোহের স্পর্ধিত অভিযান।
বেগবান পৃথ্বী প্রদক্ষিণ করে জ্বলন্ত সূর্যকক্ষ
সাগর পারে বহ্নিমান শিখা করি প্রত্যক্ষ।

পাঁচ)

মানুষের চেয়ে কে বড়? কেউ না।
হিটলার মুসোলিনির পরিণতি দেখেও রাষ্ট্র কিছু শেখে না। শিখবে কেন?
মানুষ তো শেষ পর্যন্ত নয় ক্রীতদাস
মানুষই তো লিখবে সৃজনের ইতিহাস।

রাষ্ট্রীয় নির্দেশ অগ্রাহ্য–
পদদলিত হুকুমনামা ‘শুট অন সাইট’।
জনতার মার্চপাস্ট পথে পথে
ওঠে আওয়াজ–
লেফট রাইট! লেফট রাইট!

মুক্ত করো ভয়। জয় হোক মানুষের, জয়!