আদিবাসী প্রতিবাদী নারী ও সমাজকর্মী কবি জাসিন্তা কেরকেট্টা। তিনি মেইনস্ট্রিম পত্রিকা গ্রুপ প্রদত্ত জাগৃতি সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছেন তার একটি কবিতার ইংরেজি থেকে ভাবানুবাদঃ
তমাল সাহা

ধুলোমাটি নিয়ে খেলুড়ে মেয়েটি
জাসিন্তা কেরকেট্টা

শিশুদের সঙ্গে মিলেমিশে ধুলো মাটি নিয়ে যখন সে খেলছিল তাকে জোর করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলো।

সে জানতে চাইলো, আমাকে তোমরা জোর করে টেনে নিয়ে যাচ্ছ কেন?

তারা বলল, তুই আর ওদের সঙ্গে খেলতে পারবি না। যাদের সঙ্গে রান্নাবাটি ঘরকন্না খেলছিস তারা হলো ছেলে আর তুই মেয়ে!

তোতামুখো শুয়োরের মতো দেখতে একটা লক্ষ্মীর ঘট তার ছিল। সেটা ভেঙে, তার থেকে জমানো সব পয়সা বার করে নিয়েছিল সে।
তারপর আধঘন্টা ধরে হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিল মেলায়।কিনেছিল নিজের শখের সেইসব খেলনাপাতি— মাটির হাঁড়িকুড়ি কড়াই থালাবাটি।
সেসব ছুড়ে ফেলে দেয়া হলো। সব পড়ে রইলো এক কোণে।

তারপর?
সে শুরু করল সত্যিকারের থালা বাটি গেলাস বাসনকোসন সাফসুতরো ধোয়ামোছার কাজ।

তারা বলল, দেখো! কী সুন্দর মিষ্টি মেয়েটা।
এমন মেয়েই তো সকলে চায় যে মেয়েটা এঁটোকাটা বাসনপত্তর এমন মেজে ঘষে সাফ করবে, সুন্দর রাখবে পুরো ঘর-গেরস্থালি।
দিনরাত ঘরের মেঝে ঝাড়পোছ করবে, সবার জন্য ভাত রাঁধবে।

জানালার পর্দা সরিয়ে
মেয়েটা তার মেয়েবেলার ছেলেদের দেখে।
এদের সঙ্গেই তো সে খেলেছিল একদিন!
তারা সবাই বড় হয়ে গেছে, বয়স বেড়েছে, একটা নাদুসনুদুস শিশুকন্যাকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এই শিশুটিকে সে-ই কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে।

তার চোখের তারায় ভেসে ওঠে
সে কোথাও কোনো অচেনা জায়গায় পড়ে আছে।
স্বপ্নে দেখে সে আবার ছোটবেলার খেলা খেলছে—
বালি দিয়ে ঘর বানাচ্ছে, মাটির হাঁড়িতে ভাত রান্না করছে!