চাল যে কত প্রকার! পরিবেশ পরিস্থিতিতে চালের কথা উঠে আসে জীবন জীবিকায়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়…..

চালের কবিতা
তমাল সাহা

ঘনায়মান এই ভারতীয় অন্ধকারে
গালে হাত বসে থাকি আমি,
কুরুক্ষেত্র প্রান্তরের দৃশ্য মনে পড়ে।
প্রদীপ হাতে রমণীরা শব শনাক্ত করে।

মনে পড়ে
শকুনির পাশার চাল
দ্রৌপদীর বস্ত্র বেহাল।

আর মনে পড়ে জীবনানন্দকে।
তাহার কবিতায় শুনিয়াছি
আশ্চর্য ধানের ঘ্রাণ।
আতপ, সেদ্ধ জানিতাম আমি
তাহার কাছে শুনিয়াছি
রূপশালী ধানের রমণীয় প্রাণ।

মাথার উপরে অনেকের চাল আছে।
চাল চুলোহীন অগণন মানুষ রহিয়াছে পৃথিবীর পথে।
আর রহিয়াছে রাষ্ট্রীয় চাল,
কত চাল রহিয়াছে মজুত আড়তে।

বাজার ক্রমশঃ দখল করিতেছে
দুই মহাজন মহাজনি।
জীবনানন্দ যুদ্ধের বাজারে
নারীর শরীর নিলামের কথা লিখিয়াছে,
লিখিয়াছে কালোবাজারি চালের দুর্মূল্যের কাহিনী।
লেখে নাই যুদ্ধ মন্বন্তরে
পাওয়া যায় বিনামূল্যে চাল।
জানিত না সে মানুষকে অপমান করে,
পণ্য করে,সওদা করে চালের বিনিময়ে ভোটের বাজারে রাষ্ট্রীয় চাল।

দিন বদল হয়,ক্ষমতা বলে আবিষ্কার হয় আরো নানাবিধ চাল।
শুনিতেছি মুক্ত মনে দোকানির চিৎকার…
কোনটি নেবেন
মমতা? না মোদীর চাল?

এইসব চাল চলিয়া যাবে নিরন্নের ঘরে
পৃথিবীর যাবতীয় ভোট ইহাদের হাতে
দু কেজি চাল ঘুরায়ে দিতে ক্ষমতার হাল!

চাল নেবে গো! চাল…..