শেওড়াফুলির বাজারে মাছ বিক্রি করছেন ‘কেষ্ট’ ! তুঙ্গে জল্পনা

অবতক খবর,৯ মার্চ : ভরা মাছবাজারে বঁটির উপর বসে আছেন তিনি। চারপাশে জ্যান্ত ও কাটা মাছের সারি। পরনে চেক লুঙ্গি, গেঞ্জি কাপড়ের গেরুয়া ফতুয়া। তাকিয়ে রয়েছেন খানিকটা বেজার মুখেই। ঝুপো গোঁফ থেকে চুলের কাট, এমনকি চাহনিটাও পর্যন্ত মিলে যাচ্ছে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ছবি দেখে নেটাগরিকরা চমকে গিয়েছেন। কারণ, প্রথম জীবনে বাজারে মাছই বিক্রি করতেন বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর রাজনীতিতে আসা। ফলে, ভাইরাল হওয়া ওই ছবি ঘিরে তৈরি হয় কৌতূহল।

কেষ্টর সঙ্গে চেহারায় দারুণ মিল থাকা শেওড়াফুলির ওই মৎস্য ব্যবসায়ীর নাম সুকুমার হালদার। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি মাছ বিক্রি করছেন ওই বাজারে। থাকেন শেওড়াফুলি নিমাইতীর্থ ঘাট এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে। অনুব্রতের সঙ্গে তাঁর মিলের কথা তুলতেই বিরক্ত হলেন সুকুমার। তিনি বললেন, ‘‘অনেক ক্রেতা আমাকে বলেন, সুকুমারদা, তোমাকে অনুব্রতের মতো দেখতে। এর পর এক দিন কেউ আমার ছবি পাশ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভাইরাল করে দিয়েছে। কারা করেছে তা আমি জানি না।’’

ডান পা ভেঙে গিয়েছিল সুকুমারের। এখনও তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ নন। পাশাপাশি, আরও নানা অসুস্থতা রয়েছে তাঁর। এই অবস্থাতেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর ছবি ভাইরাল হয়ে ওঠার পিছনে যাঁরা তাঁদের শাস্তি চান সুকুমার বললেন, ‘‘পুলিশ প্রশাসন যদি তাদের শাস্তি না দিতে পারে, তা হলে স্বয়ং ঈশ্বর তাদের শাস্তি দেবেন। সে শাস্তি তোলা আছে।’’

স্বামীর ছবি ভাইরাল হওয়ার খবর পেয়ে হতবাক সুকুমারের স্ত্রী শুক্লা হালদার। তাঁর গলায় বিস্ময়ের সুর, ‘‘কী অবস্থা! এটা শুনে কষ্ট পাচ্ছি। ওঁর পা ভাঙা। চিকিৎসার খরচ মেটাতে আমরা নিজেদের দু’টি বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছি। যারা আমার স্বামীর ছবি ভাইরাল করেছে তাদের শাস্তি চাই। এটা জঘন্য কাজ করেছে।’’