শুভ্রাংশুর অভিযোগের পাল্টা জবাবে কেন মুখ খুললেন না দুই বিধায়ক? এই লড়াইয়ে ব্যারাকপুরে রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে?

অবতক খবর,২ ফেব্রুয়ারি: বারাকপুর অঞ্চলে চলছিল লড়াই অর্জুন সিং বনাম সোমনাথ শ্যাম। বেশকিছু দিন চলল এই লড়াই, উচ্চ নেতৃত্বরা এতে হস্তক্ষেপ করলেন। কখনো মুখ খুলতে দেখা গেছে সোমনাথ শ্যামকে, আবার কখনো তার পাল্টা জবাব দিতেন সাংসদ অর্জুন সিং। কিন্তু লড়াই থেমে থাকেনি। কেউ লাল ফাইল, আবার কেউ হলুদ ফাইলের কথা বলেছেন। কিন্তু কেউই সেই ফাইল প্রকাশ্যে আনেননি। কিন্তু এই লড়াইয়ে সোমনাথ শ্যামের সমর্থনে নামলেন বীজপুর বিধায়ক সুবোধ অধিকারী। তিনিও তাঁর সমর্থন করে অর্জুনের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগতে শুরু করে দিলেন। এ নিয়েও রাজ্য এবং জেলা স্তরে মিটিং হলো, কিন্তু তা সত্ত্বেও একে অপরকে দোষারোপ করা বন্ধ হয়নি। সোমনাথ শ্যাম-সুবোধ অধিকারী বনাম অর্জুন সিং। অর্জুন সিং ময়দানে একাই ছিলেন।

দুদিন আগে কাঁচরাপাড়ার এক রক্তদান শিবিরে এই দুই বিধায়ককে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সেখানে এই দুজনেই অর্জুন সিং-এর বিরুদ্ধে বলতে মুখ খুললেন। তবে হঠাৎই তারা বলেন,”কাঁচরাপাড়ায় অনেক বড় বড় পাল্টিবাজ নেতারা রয়েছেন।” পাশাপাশি আরও অনেক কথাই তারা বলেছেন। অদ্ভুতভাবে এই সব কথার মাঝে তারা নাম না করে বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়কের কথা তুলে ধরেন।

ঠিক তার পরেরদিন বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি এই দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন,কারা পাল্টিবাজ,কারা ২০১৯-এর পর সন্ত্রাস করেছিল,কারা বিজেপিতে ছিল,যারা দলবাজ তারাও একসময় বিজেপিতে ছিল। অর্থাৎ তিনি একের পর এক অভিযোগ করতে শুরু করেন। জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেও পিছপা হননি। তিনি বলেন,’যদি দল অনুমতি দেয় তবে জগদ্দলে গিয়ে মঞ্চ বেঁধে বিধায়কের বিরুদ্ধে মুখ খুলবেন।’ এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের জেরে বারাকপুর লোকসভা অঞ্চলে গোষ্ঠী কোন্দল চরমে পৌঁছে গেছে। তবে এ নিয়ে অর্জুন সিং এর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। এ নিয়ে কারোর কোন বক্তব্যই আর শোনা যায়নি, প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় যাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলে ছিলেন তাদেরও কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বা সাংবাদিক বৈঠক দেখা যায়নি।

তবে সূত্রে জানা গেছে, শুভ্রাংশু রায় যে দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তা উচ্চ নেতৃত্বদের সাথে আলোচনা করেই মুখ খুলেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এটাই মনে করছেন যে, তিনি উচ্চ নেতৃত্বদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা না করে এইরকম গুরুতর অভিযোগ করতে পারেন না।

অন্যদিকে যে দুই বিধায়ক বিধায়কের বিরুদ্ধে তিনি মুখ খুলেছেন, অর্থাৎ তিনি বলেছেন যে, একজন বিজেপিতে ছিল। সেই বিধায়করাও শুভ্রাংশুর অভিযোগের পাল্টা কোন জবাব দিতে চাইলেন না।

তবে এখন দেখা যাচ্ছে দুই পক্ষই শান্ত রয়েছে। সকলের মুখই বন্ধ রয়েছে।

এখন প্রশ্ন,লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দলে থেকেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলাটা কতটা প্রাসঙ্গিক, তার কি প্রভাব পড়বে?