দুঃশাসন/তমাল সাহা

দুঃশাসন
তমাল সাহা

আমি তো আর দ্বিতীয় পাণ্ডব নইরে মা!
দুঃশাসনের বুকের রক্ত করবো পান
রক্তে রঞ্জিত করে দেবো তোর কেশদাম!
পাপে পরিপূর্ণ যে হাতে টেনে ধরেছিল
কুন্তলরাশি, তোর নারীত্বকে করেছিল অপমান
চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবো কলঙ্কিত সেই হাত!

আমি তো আর বাহুবলী ভীম নইরে মা!
অত দেহসৌষ্ঠব বীর্যবত্তা নেই তো আমার
বল এখন কি আছে উপায়?
পিতা তোর নতমস্তকে ক্ষমা চায়।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ এখনো হয়নি সমাপন।
আঠারো দিন তো তুচ্ছ!
সহস্র দিন অতিক্রম করে যায়।
মহাভারতের দ্রৌপদীর চেয়েও তুই বড়
এটা কোনো রাজসভা নয়, বিশাল জনসভায়।

তুই তো নিজেই মহাপ্রতিবাদী
মুণ্ডিত মস্তকে লিখে যাস আন্দোলনের নতুন অধ্যায়।
দ্রৌপদীর পাশে শ্রীকৃষ্ণ ছিল
তোর পাশে এসে দাঁড়াবে এমন হিম্মত কোথায়?

নারীর সৌন্দর্য নিজ হাতে সমর্পণ করিস তুই,এতো ব্যক্তি নয় রাষ্ট্রীয় বলাৎকার!
প্রজন্মকে পদদলিত করে রে রাষ্ট্র, তুই পালন করিস কোন মানবাধিকার?
নির্মম নিষ্ঠুর হিংস্রতা মাত্রা ছাড়ায়
বেআব্রু হয়ে গেছে শাসক, তোর লজ্জা শরম কোথায়?

রাজধানীর প্রশস্ত চত্বরে জনসমাবেশে
এই ঐতিহাসিক কেশকর্তন প্রদর্শন করে অন্তঃপুরে ফিরে যায় সভাসদগণ
হস্তে তাহাদের মুদ্রা মোহর বঙ্গবিভূষণ।
অন্তঃপুরচারিকা সক্রোধে করে ওঠে গর্জন–
নারীর মর্যাদা লুন্ঠন নীরবে প্রত্যক্ষ করিস তুই!
ফিরে যা, ফিরে যা, রে তুই দুঃশাসন!

* নিয়োগ দুর্নীতি আন্দোলনের সহস্র দিন পার
৯ ডিসেম্বর, ২০২৩