টাকা গোনার মেশিন ও একাধিক মোবাইল ফোন সহ সোদপুর থেকে একটি বেওয়ারিশ গাড়ি বাজেয়াপ্ত করল খড়দহ থানার পুলিশ

অবতক খবর,১৩ মেঃ টাকা গোনার মেশিন ও একাধিক মোবাইল ফোন সহ সোদপুর থেকে একটি বেওয়ারিশ গাড়ি বাজেয়াপ্ত করল খড়দহ থানার পুলিশ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়, তদন্ত শুরু করেছে খড়দহ থানার পুলিশ।

পানিহাটির পৌরপ্রধান মলয় রায়ের উদ্যোগে গত সোমবার থেকে সোদপুর অমরাবতী মাঠে শুরু হয়েছে ৩৬ দিনের “পানিহাটি এক্সপো মেলা” । সেই মেলার মঞ্চের পিছনে ভিআইপি গেটের কাছে গত কয়েকদিন ধরে রহস্যজনক ভাবে পড়ে থাকা একটি এসইউভি গাড়ি শুক্রবার বাজেয়াপ্ত করলো খড়দহ থানার পুলিশ । গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৬ টি মোবাইল ফোন ও টাকা গোনার মেশিন । পুলিশ সূত্রে খবর এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে বেশকিছু প্যান কার্ড, এটিএম কার্ড, প্রেস কার্ড, নথিপত্র সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী । কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ গাড়িটি রেখে গিয়েছিল কিনা পুলিশ সেদিকটি যেমন খতিয়ে দেখছে, তেমনি গাড়িটির মালিকানার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে । জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের থেকে রেজিস্ট্রেশন হওয়া গাড়িটি সেলিম মিদ্যা নামে এক ব্যক্তির । গাড়িটির বয়স প্রায় ১০ বছর । কিন্তু বাঁকুড়ার গাড়ি সোদপুরে এল কি করে তার তদন্ত শুরু করেছে খড়দহ থানার পুলিশ । জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে গাড়িটি ওই মাঠে রাখা ছিল । গাড়িটির কোনও মালিকানা না পাওয়ায় মেলা উদ্যোক্তারা মেলার ব্যারিকেড ঘুরিয়ে দেন । বৃহস্পতিবার বিষয়টি নজরে আসে খড়দহ থানার পুলিশের । এরপরই পুলিশ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায় ।

মেলা কমিটির মুখ্য সংগঠক তথা পূর্ব পানিহাটি তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মনোময় রায় জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে গাড়িটি মাঠে পড়েছিল, আমরা পাড়াতে খোঁজখবর নিয়েছিলাম কিন্তু গাড়ির মালিকানার বিষয় কেউ কিছু বলতে পারেনি । এরপর পুলিশ মেলা প্রাঙ্গণটি খতিয়ে দেখতে আসলে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায় এবং পুলিশ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায় । গাড়ির ভেতরে কি ছিল তা তারা জানতেন না কারণ গাড়িটির কাঁচ বন্ধ অবস্থায় সম্পূর্ণভাবে লক করা ছিল । তিনি এও জানান বিষয়টি যথেষ্ট রহস্যজনক এবং আশঙ্কাজনক কারণ গাড়িটি থেকে কোন ক্ষতিও হতে পারতো ।

তবে বিজেপির যুব নেতা জয় সাহা এই বিষয়ে তীব্র উস্মা প্রকাশ করে বলেন যে কেন মেলা কমিটির এতদিন বিষয়টি নজরে এলো না এবং বিষয়টি প্রশাসনের কি করে নজর এড়িয়ে গেল । তিনি বলেন একটি গাড়ি থেকে যদি টাকা গোনার মেশিন উদ্ধার হতে পারে তাহলে কেন ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হবে না । বিষয়টি প্রশাসনের খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা উচিত এবং একদম গোড়া থেকে বিষয়টি ধরা উচিত ।