চাষাড়ে ক্রোধ/তমাল সাহা

চাষাড়ে ক্রোধ
তমাল সাহা

ই যে বইস্যে আছেন বাবুমশাইরা
আপনারা তো লিখ্যাপড়া খুব কইরছেন
আমরা বাগদিপাড়ার মুখ্যু সুখ্যু মানুষ
আপনারা চাষি শব্দটো তো শুইনছেন
চাষির পাঁচটা পতিশব্দ বুইলতে পারেন?

হ! বুইঝলম,
চাষিকে বুলে কিষান, কৃষক,
খারাপ ডাকে বলে চাষাভূষা
ভালো ভাষায় কি বলে?
উরি শালো! কৃষিজীবী, শস‍্যজীবী!
আরে শুইনছেন তো
ভাগচাষি, খেত মজুর,বগ্গাদার ইসব শব্দ?
ইরাও তো চাষি বোট্যে নাকি!

আরে বাবুরা! হিক্টর কি বুলেন তো?
হ! বুঝলম, হিক্টর হোল জমির মাপ!
অত হিক্টর! হিক্টর! বুইললে মুদের মাথা ঘুইরে যায়
আপনি বুইলবেন ইকর—
ইকর বুইললেও মুদের মাথা ঘুইরতে থাইকবে।
অ‍্যাক ইকরে কত্তো বিঘা বুলেন তো?
আর বিঘা বুইললেই বা কি হবেক?
মুর তো এক ছটাকও জমি লাই।
মু হোলম ক্ষ্যাত মজুর!
তা সরকার,ভারত সরকার বুইলছে
দু হিক্টর জমি যাদের আছে,
তাদের বছ্ছরে ছয় হাজার টাকা কইরে দিব্যেক।

দুই হিক্টর জমি কার আছে?
মানে পাঁচ ইকর মানে পনেরো বিঘা জমি?
ইত্তো জমি ভারতবর্ষে কুত্তো চাষার আছে,
ই সরকার জানে তো?
তো দিবেক তো দিবেক! ই তো সুখবর বটে!

তিন কিস্তিতে দিবেক দুহাজার কুইরে।
মানে দাঁড়াইলো মাসে পাঁচশো টাকা
মুর পরিবারে পাঁচজন মনিষ—
মুর মা, বাপ, বৌ, একটা মেইয়ে আর আমি লিজে।
তা রোজ কত্তো হইল্যো?
সতেরো টাকার মতো।
মাথাপিছু কত হইল্যো?
সাড়ে তিন টাকা।

এই যে ধনপতি দাদা,বিত্ত মন্ত্রী!
তুরে মুই সাড়ে তিন টাকা রোজ দিলম।
তু তুর সংসারটো চালায় দেখ দেখি?

ই শালো মন্ত্রী!
দেশে মাইনষের সংখ্যা কত?
একশো তিরিশ কোটি।
ই দ্যাশ কিষ্যিপধান দ্যাশ—
চাষার সংখ্যা কত্ত?
বারো কোটি
বর্গাদার, ভাগচাষী, খেতমজুর
ইসব কি চাষী লয়?
ইরা কি কুনো টাকা পাবেক লাই?
কুত্তো হাজার চাষা কর্জের জইন্যে
সুইসাইড কইরেছে তুরা জানিস?

তু খোয়াড়ের টেবিল থাপড়াইয়ে বুইলছিস
ইতে তিন কোটির ভাইগ্য খুইলে যাবেক
পঁচাত্তোর হাজার কোটি টাকা
বরাদ্দ হব্যেক
তা হইল্যে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ ‘
ই স্লোগানটোর তো পিছন মারা গেইল্যো বটে!

মুরা কি শুইনব রে?তোর অই ভজর ভজর,
ওই দুইশো তিনশো পিষ্ঠার অই বাজেট?

কি হব্যেক উ বাজেট?
মুরা তো চাই দুইটা ভাত…
ই দ‍্যাখ!মুদের তো ছোট্ট একটা প‍্যাট!

ইখন যদি রেইগ্যেটো যাই,
মু খিস্তিটো মারি তবে কি খুব দোষ হইব্যেক?
হারামখোর সরকার!
ই প্রকল্পের কি নাম দিছ্যে
শুইনে যা তুরা—
কিষান সম্মান নিধি।
গাড়-টো মাইরলো বটে ইখন দুজন
এক সরকার আর মুদের ভাইগ্যো দেবতা—
তুরা যাকে বুলিস বিধাতা-বিধি!