কৃষ্ণার্জুন কথোপকথন/তমাল সাহা

শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে ৫১৫৪ বছর আগে ৩১৪০ খ্রিস্টাব্দে কুরুক্ষেত্রের ময়দানে এই শিক্ষা দিয়াছিলেন। আজ এই কালরাতে তিনি কাঞ্চনপল্লীর গোরস্থানে আমাকে কী শিক্ষা দিলেন!
চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী!

কৃষ্ণার্জুন কথোপকথন
তমাল সাহা

শ্রীকৃষ্ণ কহিলেন, অস্থির হয়ো না, সখা! মৃত্যু যে প্রকারেই হউক নিশ্চিত দুঃখজনক ও শোকাবহ।
পার্থ কহিলেন, কিন্তু এমন দংশিত স্তন, ক্ষতবিক্ষত মুখ, রক্তস্নাত যোনি কী সহ্য করা যায়? ইহা তো ধর্ষণ?

পার্থসারথি কহিলেন, সত্য কথা। মানুষের হিংস্রতার দৃষ্টান্ত তো তোমাকে শেখাইতে হইবে আমায়! মহাভারতে কী ধর্ষণ নাই, ঋষিরাও কী ধর্ষণ করেন নাই, মহাভারতে কী যৌন গন্ধ নাই? পাঞ্চালিকে পঞ্চপাণ্ডবের স্বেচ্ছাসম্ভোগ কী বলাৎকার নয়?

গান্ডীবধন্বা স্তব্ধ।
কহিলেন, কিন্তু কৃষ্ণা তো দহিত হয় নাই?

শ্রীকৃষ্ণ কহিলেন, অগ্নিতে দাহ্য হইলেই কী দহন হয়? নিহতের চেয়ে সে বেশি ছিল লজ্জিত, অপমানিত , মানবতা তখন লাঞ্ছিত। শুধু দীর্ঘশ্বাস…

শোনো সখা, মৃত্যুর প্রকার লইয়া প্রশ্ন তুলিও না। কুরুপাণ্ডব যুদ্ধ কী ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা নয়? তখন মাতা কন্যা ভগ্নীর বৈধব্যবেশ, আর্তনাদ, হাহাকার পরিপূর্ণ বাতাস! ধর্ষণও মৃত্যুর একটি প্রকাশ। ইহাতেও মৃত্যু অনিবার্য। তথাকথিত রাষ্ট্র শাসক কী প্রকাশ্যে দেশমাতা ধর্ষক নয়?
জন্মভূমিকে পণ্য হিসাবে ধর্ষক কর্পোরেটের হাতে তুলিয়া দেওয়াকে তুমি কী বলিবে?

এইবার শ্রীকৃষ্ণ নতজানু হইয়া জোড়হস্তে জিজ্ঞাসিলেন, স্বীকার করিলাম মৃত্যু গ্রাহ্য, অনিত্য। কিন্তু কতকাল চলিবে দৃষ্ট এই দানবিক নৃত্য?

শ্রীকৃষ্ণ কহিলেন, অস্থির হয়ো না, সখা! ধৈর্য ধরো। সুদর্শন চক্রের নাম শ্রবণ করিয়াছ তো! চক্র ঘূর্ণায়মান পৃথিবীর প্রতীক। তাহা সুদর্শন হইবেই একদিন। ইহাই জীবন সত্য।
মহাকাল বৈশাখীর পর শুদ্ধ বারিধারায় ধরিত্রী হইবে স্নাত।
ইহা কি বাস্তব চক্ষে তুমি দর্শন কর নাই?

শ্রী কৃষ্ণ অর্থ কি তুমি জ্ঞাত নও! কৃষ্ণ মানে আঁধার। শ্রী সৌন্দর্য। আঁধারে যে সৌন্দর্য আনয়ন করে সে-ই শ্রীকৃষ্ণ।
মানব শক্তির পক্ষেই তা সম্ভব মানুষই শ্রীকৃষ্ণ। অর্জুন বলিতে তুমি কি বোঝো? অরিকে জয় করে যে সেই তো অর্জুন। জনশক্তিই রাষ্ট্র রূপ অরিকে জয় করিতে পারে। মানুষ নাই তো পৃথিবী নাই।