কি করতে চাইছেন হালিশহর পৌরসভার চেয়ারম্যান রাজু সাহানি?? রহস্যের গন্ধ বীজপুরের রাজনীতিতে!!

অবতক খবর,৯ মার্চঃ ৮ই মার্চ ছিল হোলি উৎসব। আর হোলির দিনে দেখা গেল হালিশহর পৌরসভার চেয়ারম্যান রাজু সাহানি প্রতি বছরের মত বীজপুর বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর বাড়িতে গিয়ে রংয়ের এই উৎসব পালন করলেন। পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাঁচরাপাড়ার চেয়ারম্যান কমল অধিকারী সহ একাধিক কাউন্সিলর।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই বীজপুরে এসে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং বলেছিলেন,’রাজু একজন বাহাদুর বাবার ছেলে। তিনি কাকে ভয় পাচ্ছেন,কেন তিনি পৌরসভায় যাচ্ছেন না?’ এই প্রশ্ন তুলেছিলেন সাংসদ।

সাংসদের এহেন বক্তব্যের পরই মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে যায় যে, সাংসদ যখন এমন প্রশ্ন তুলছেন তখন নিশ্চয়ই কোন না কোন রহস্য রয়েছে। অধিকারী পরিবারের সঙ্গে রাজু সাহানির কোন না কোন দ্বন্দ্ব রয়েছে।

যেখানে সাংসদ নিজেই রাজু সাহানিকে বলেছিলেন যে,”কেন তুমি পৌরসভায় যাচ্ছো না। তুমি যাও,তারপর আমি আছি।”

এর অর্থ তো এটাই দাঁড়ায় যে,রাজু সাহানি অর্জুন সিং-এর সাথে যোগাযোগ করেছেন।‌ অথবা এমনও হতে পারে যে,রাজু সাহানি হয়তো পৌরসভায় না যেতে পেরে অভিযোগ জানিয়েছেন সাংসদের কাছে।

আর এই সংবাদ প্রকাশিত হতেই বীজপুরের রাজনীতিতে শুরু হয়ে যায় হইচই। সকলেই মনে করতে শুরু করেন যে,হয়তো অধিকারী পরিবারের সাথে রাজু সাহানির সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেল।

আর এরপরেই শুরু হয়ে গেল সেটিং রাজনীতি। অর্থাৎ বীজপুরে যারা যারা অর্জুন পন্থী রয়েছেন তাদের সেটিং করা শুরু হয়ে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে,বীজপুরে যারা অধিকারী বিরোধী ছিল তারা এখন অধিকারী পন্থী হয়ে গেছেন। যেমন, হালিশহর পৌরসভার কাউন্সিলর মৃত্যুঞ্জয় দাস। তিনি একসময় বিরোধীতায় সরব হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে অর্জুন সিং বীজপুরে এলেও তিনি এখন আর সাংসদের কাছে যাচ্ছেন। তিনি হয়তো অধিকারী গোষ্ঠীতে নাম লিখিয়েছেন।

এ নিয়ে মৃত্যুঞ্জয় দাসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সেইরকম কোন বিষয় নেই। যেহেতু তিনি আমাদের বিধায়ক। সেই কারণে বিধায়কের সাথেই আমাদের থাকতে হয়।”

কিন্তু সাংসদ অর্জুন সিং প্রসঙ্গে তিনি মুখ খুললেন না।

হোলির দিন রাজু সাহানিকে দেখা গেল বীজপুর বিধায়ক,কাঁচরাপাড়ার চেয়ারম্যান, হালিশহর পৌরসভার উপ পৌরপ্রধানের সঙ্গে এক ফ্রেমে।

তাহলে কি সব দ্বন্দ্ব মিটে গেল? এবার কি তবে রাজু বাবু পৌরসভায় আসবেন?

হোলির দিনের সেই ফ্রেম দেখে এমন সব প্রশ্নই তুলে দিয়েছেন বীজপুরের সাধারণ মানুষ।

রাজু সাহানি তো গেলেন অধিকারী শিবিরে। এখন প্রশ্ন, অধিকারী শিবির কি মেনে নিচ্ছে রাজু বাবুকে? কারণ রাজু বাবু যাচ্ছেন অধিকারীদের কাছে। তবে অধিকারী শিবিরকে কিন্তু রাজু বাবুর কাছে যেতে দেখা যাচ্ছে না।

৭ই মার্চ বিধায়কের উদ্যোগে এত বড় হোলি উৎসব হলো। সেখানে সকল নেতৃত্বরা এলেন, কিন্তু মঞ্চে ডাকা হলো না রাজু সাহানিকে। অন্যদিকে,বীজপুরে বড় বড় উৎসব হচ্ছে,বড় বড় অনুষ্ঠান হচ্ছে। কিন্তু সেখানে ডাকা হচ্ছে না রাজু সাহানিকে। কারণ রাজু সাহানি হাজতবাস করে ফেরার পরই দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। হালিশহরে দুর্নীতি মানেই তো বীজপুরে দুর্নীতি। এইখানেই প্রশ্ন উঠছে বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে। দুর্নীতি হলো অথচ বিধায়ক কি করলেন? তবে কি সেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন বিধায়ক? আর যেহেতু রাজু সাহানি সমস্ত কিছুই জানেন,সেই দুর্নীতিকে ঢাকার জন্যই কি অধিকারী শিবিরে ফের নিয়ে নেওয়া হচ্ছে রাজুকে? কারণ রাজু সাহানি পৌরসভার দুর্নীতি নিয়ে সবেমাত্র মুখ খুলতে শুরু করেছিলেন। রাজু বাবু বলেছিলেন, বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ নেই।

অন্যদিকে বিধায়ক সেই সময় বলেছিলেন,”আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি।”

৮ই মার্চ কি তবে রাজু বাবু বিধায়কের কাছে প্রকৃতই হোলির শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়েছিলেন? নাকি ফের অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন? নাকি এর পেছনেও রয়েছে অন্য কোন রহস্য!!

বীজপুরের রাজনীতিতে রয়েছে কি রহস্য? কি চলছে সাহানি এবং অধিকারী শিবিরের মধ্যে? রাজু সাহানি কি ফের বসতে পারবেন পৌরসভায়?

এই সকল প্রশ্নের উত্তর,সব রহস্যের উন্মোচন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা!!