বিনয় ভরদ্বাজ,অবতাক খবর ,31শে জুলাই ::  বয়স ৪০ ঊর্ধ্বে গেলে আর তৃণমূলের যুব সংগঠনে থাকতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত, যুবকদের নিয়ে গঠিত নতুন সংগঠনের প্রথম বৈঠকেই জানিয়ে দিলেন তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই ঘোষণার পর এক ঝটকায় কয়েক হাজার তৃণমূল যুব নেতারা পদ বিহীন হয়ে পড়লেন। দীর্ঘ ১৫, ১৭,২০ বছর ধরে যুব সংগঠনের বিভিন্ন পদ আঁকড়ে পড়েছিলেন বহু নেতারা।

বহু এমন নেতা রয়েছেন যাদের বয়স 50-60 পেরিয়ে গেছে তবুও তারা যুব সংগঠনের পদ আগলে ধরে রেখেছিলেন। আবার কিছু কিছু মানুষকে পদ দিয়ে তাদের পক্ষে রাখার জন্য এই পদে বসিয়েছিলেন তৃণমূলের জেলার বিধায়ক সাংসদরা। এমন তৃণমূল নেতাদের সংখ্যাও খুব একটা কম নয়।

দল এখন নতুন করে সেজে উঠছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন যুবক-যুবতী দরকার, যৌবন দরকার। তাই তার আহ্বানকে মাথায় রেখে রাজ্য যুব সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে দল।

যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত যুব তৃণমূল জেলা সভাপতি ও রাজ্য কমিটির সকল সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন এবার ৪০-এর ঊর্দ্ধে গেলেই তৃণমূল যুব সংগঠনে ‘নো এন্ট্রি’। তিনি জানান, যুব মানে যুবই যেন থাকে। তাই এখন থেকে যুব সংগঠনে শুধুই যুবক-যুবতীরা থাকবে।

ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে যুবক-যুবতীদের তৃণমূলে যোগদান করাতে যে অভিযান চালানো হয়েছিল তাতে যুব সংগঠনের প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ সদস্য যোগদান করেছেন। আগামী দিনে আরও পাঁচ লক্ষ যুবক যুবতীদের তৃণমূলে যোগদান করানোর লক্ষ্য নির্ধারিত করেছে দল।

রাজ্যের নবনির্বাচিত নবগঠিত সংগঠনের প্রথম বৈঠকে এই বড় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত জেলার যুব সভাপতিদের জানিয়ে দেন, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে তারা যেন জেলা ও ব্লক যুব সংগঠনের কমিটি গঠন করে নেন ।

এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেকটাই উজ্জীবিত যুবক-যুবতীরা। কারণ তাদের যেখানে বসে থাকার জায়গা সেসব জায়গায় প্রবীণ তৃণমূল নেতারাই দখল করে রেখেছিলেন এতদিন। তাই এখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল ৪০ ঊর্ধ্বে নেতা-নেত্রীরা বাতিল হবেন ও নতুন নতুন যুবক-যুবতীরা দায়িত্ব সামলাতে এগিয়ে আসবেন। তবে যে সকল নেতারা দীর্ঘদিন ধরে পদ আঁকড়ে বসে ছিলেন তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে তারা এখন পদবিহীন হয়ে পড়েছেন

তাই অনেকে তৃণমূল মাদার কমিটিতে ঢুকে পড়তে এখন থেকে চেষ্ঠা শুরু করে দিয়েছেন। কারণ এখন  তাদের জায়গায় আসতে চলেছেন রাজ্যের নবাগত একেবারে তাজা তরুণ-তরুণীরা। যুব সংগঠনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূল যুব সংগঠনের ব্যাপকহারে তরুণ-তরুণীদের সমাবেশ ঘটতে চলেছে  ও দলে নতুন যৌবনের সঞ্চার হতে চলেছে ,তাতে কোন সন্দেহ নেই।

তৃণমূল যুব সংগঠনের এই সিদ্ধান্তকে একদিকে রাজনৈতিক পন্ডিতরা ঐতিহাসিক ও বোল্ড সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।