অবতক খবর, বর্ধমানঃ নিয়মিত বিদ্যালয় খোলা হয় এবং নিয়মিত সময় করেই বন্ধ হয়। বিদ্যালয় গেট খোলা থেকে বন্ধ করা, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা করানো, হোম ওয়ার্ক দেখা, বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল রান্না হচ্ছে কিনা, সঠিকভাবে তার পরিবর্তন হচ্ছে কিনা , পাশাপাশি মিড ডে মিলের হিসাব রাখা, দশ অবতারের একাই সামলাচ্ছেন রানীগঞ্জের বাসিন্দা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষক। তথা বিদ্যালয়ের পিয়ন প্রদীপ গুপ্তা।

গাংবিল হিন্দি জুনিয়র হাই স্কুল যেখানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা একশো কুড়ি জন। বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ আছে চারটি। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত স্কুলে আসেন লেখাপড়া শিখতে। তবে এই স্কুলে শিক্ষকের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের কারণ বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক যিনি সমস্ত দায়িত্ব পালন করেন পড়াশোনার মাঝেই তাকে অন্য দায়িত্ব সামলাতে ছুটতে হয়। এই ভাবেই সামলাতে হচ্ছে তাকে কয়েক বছর ধরে। বহুবার উচ্চ আধিকারিকদের জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। ফলে চাকরি টিকিয়ে রাখার তাগিদে দিনের পর দিন ৪ জন শিক্ষকের কাজ তাকে একাই করতে হয়। বিদ্যালয় শিক্ষক প্রদীপ গুপ্তা বলেন প্রথম প্রথম অসুবিধা হলেও বর্তমানে তা অভ্যাসের দাস এ পরিণত হয়েছে ।

বহুবার আধিকারিকদের বলেও কোন ফল না হয় অগত্যা তাকেই সমস্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। স্কুলে চারটি শ্রেণী থাকলেও পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি র ছাত্রদের একটি রুমে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীদের একটি রুমে নিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন মাস্টারমশাই। একই ক্লাসে পঞ্চম শ্রেণীর অংক ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস পড়াতে হচ্ছে তাকে। ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা হলেও কিছু করার নাই তার তাই হত্যা তাকেই ভাবে চালাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন দীর্ঘদিন ধরে এইভাবে চলার ফলে তাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হোক। সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন কাঁকসার বিডিও অরবিন্দ বিশ্বাস। তিনি বলেন যদিও বিষয়টি শিক্ষা দপ্তরের তবুও তিনি চেষ্টা করবেন দ্রুত সমস্যার সমাধান করার।