আজ বিশ্ব দুগ্ধদিবস। আমি অন্য দুগ্ধের কথা বলি।
ঘটনাটি ঘটেছিল আর জি কর হাসপাতালে। সেদিনটি ছিল এক বছর আগে। কাকতালীয় ভাবে ১ জুন,২০২০।
উমা অধিকারী-কে প্রণাম!

স্তন্য দাও, উমা
তমাল সাহা

উমা শব্দটির গায়ে
মা শব্দটি সেঁটে আছে কেন—
আমি বুঝিনি কখনো।
এই মুহূর্তে শব্দটি
ঔজ্জ্বল্য নিয়ে আমার সামনে দাঁড়ানো।

সদ্যোজাত ক্ষুধার্ত শিশুটি
তখন করছিল চিৎকার—
তার চাই একটু স্তন্য।
তার জন্মদাত্রী পয়স্বিনী হলেও
প্রতিবন্ধকতা ছিল বিশেষ কারণের জন্য।

তাহলে কি হবে এখন?
করোনার মারমুখী সংক্রমণ।
দুধ! দুধ্! দুধ! বলে গলা ছেড়ে
চিৎকার করে নবজাতক।
উমা দূর থেকে দেখে,
মনে মনে ভাবে স্তন্যের আধার আমার বুকে,
এ কার দান?
স্তনের কি প্রয়োজন যদি না করাতে পারি পান,
তবে তো আমি মহাপাতক!

সে তো আশ্রয়দাত্রী ধাত্রী
হৃদয় জুড়ে তার আবেগের বন্যা!
কি করে সইবে সে শিশুর এই আর্ত কান্না!

সবাই যখন ভীত-সন্ত্রস্ত আতঙ্কিত
ধুর তোর করোনা! সাহসী উচ্চারণে
নিজের স্তন্য শিশুকে সাদরে পান করায় উমা।
স্নিগ্ধ শিশু কঁকিয়ে ওঠে, ও মা! ও মা!

বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এই কাহিনী,
সকলেরই জানা।
আর জি কর হাসপাতালের সেবিকা উমা।
একদিন পড়শিরা দিয়েছিল হুঁশিয়ারি–
ছড়িয়ে পড়বে করোনা
উমা! তুমি আর বাড়ি আসবে না।

উমা! উমা! উমা!
শিশুটি কাঁদছে, একটু স্তন্য দিবি মা!