সে এসে বললো/তমাল সাহা

আসলে ব্রেখট মানুষের পক্ষে একজন রাজনৈতিক প্রপাগান্ডিস্ট কী কবিতায়, কী নাটকে।
আমার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল বেশ কয়েকবার যদিও সে আমার চেয়ে ৭২ বছরের বড়। কোথায় কবে কিভাবে এবং কেন দেখা হয়েছিল সেটা আমি বলবো না…

সে এসে বললো
তমাল সাহা

সে এসে বললো, তোর ওই হ্যাংলামো না আমার ভালো লাগেনা! এতো বিদেশ বিদেশ করিস কেন?
জার্মান কি এতই কাছে যে বললেই এসে হাজির হলুম! উঠলো বাই তো কটক যাই!

আমি তো কবিতা লিখি না, দৃশ্যপট লিখি।
তুই তো আর গীতবিতান লিখবি না যে তোকে অতশত ভাবতে হবে!
তুইতো জার্মান ব্রিটন বা রুশ নোস যে তোকে বারবার বাইরের দিকে তাকাতে হবে?

মাস্টারদা প্রীতিলতা মাতঙ্গিনী তিনকড়িবালা ক্ষুদিরাম প্রফুল্ল চাকি কানাইলাল ভগৎ সিংরা তো আছে, বাইরের উদাহরণ টানার তো দরকার নেই!
তোদের পাড়াতেই তো এক সময় বিপিনবিহারী গাঙ্গুলী নিরঞ্জন সেনরা থাকতো, আশ্চর্য!

অতো রডোডেনড্রন ইউক্যালিপটাস ওক চেরি বার্চ এসব লেখার দরকার কি? পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়া শাল সেগুন শিরীষ তো আছে। কবিতায় এসব লিখলেই হয়!

মজুরের প্রশ্নে আমি সাত দরজাঅলা থিবস নগরী,ব্যাবিলান, চিনের প্রাচীর, পেরুর লিমা এসব লিখেছি। আমি লিখলেই কী সব ভালো?
তুই তাজমহল কোনারক খাজুরাহো জুম্মা মসজিদ ক্যাথিড্রাল গির্জা গুরুদুয়ার জৈন মন্দির বৌদ্ধমঠ এসব শ্রমশিল্পীর কড়াপড়া হাতের কথা লেখ্।

নেতারা মসনদ দখল করবে বলে দেশের দেহ টুকরো করে নিজের পছন্দমত মাংসখণ্ড ভাগ বাটোয়ারা করে নিলো সে তো তুই জানিস
আর রাষ্ট্রের হাত না থাকলে কোনো দেশেই কোনোকালে দাঙ্গা হয় না। এসব তো আমার কাছ থেকে জানার দরকার নেই। তুই নিজের চোখেই দেখতে পাস সেটাই লিখবি। তুই কি ভাবিস আমি তোর হলফনামা, হায় ধর্ম, হে মানুষ পড়িনি!

আর আমি তো কোনো কবিতা লিখিনি।
রুটি, তাপ্পিমারা জামা, জেনারেলের ট্যাংক, প্লেট থেকে মাংসপিণ্ড তুলে নেওয়া, জেলের প্রাচীরে লেনিনের কথা গদ্যময়তাতেই লিখেছি।

তুই যারা রাস্তা তৈরি করছে
চুল্লিতে অ্যাসফল্ট গলিয়ে আলকাতরা বানিয়ে ওই নোংরা মতো লোকগুলো,
স্টোন চিপগুলো কিভাবে বিছিয়ে দিচ্ছে
গরম সূর্যের নিচে ঘামছে
তপ্ত দুপুরে রোলার চালাচ্ছে ড্রাইভার
আর রোলারের বিশাল চাকায় কেউ আবার মাঝে মাঝে বালতি দিয়ে জল ঢালছে
তুই সেই রাস্তা তৈরির পদ্ধতি দেখে কিছু লেখ্, সেটাই কবিতা হয়ে যাবে!

আর রাজনীতি? রাজনীতি ছাড়া সৃজন হয় নাকি!
আরে! পৃথিবী আর আমাদের সৃষ্টি তো আগুন আর সংঘর্ষ– এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই।

দুজনের ভালোবাসা যতক্ষণ না বস্তুবাদী দ্বন্দ্বে নিহিত না হচ্ছে ততক্ষণ ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না।