যে শিয়ালটি বলেছিল, আঙুর ফল টক’ পরে কি হয়েছিল তা বিদ্যাসাগর মশাই কথামালায় দিতে যান নি, আমাকে বলে গিয়েছিলেন লিখতে…

সেই শিয়ালটি
তমাল সাহা

যে শিয়ালটি আঙুর ক্ষেত থেকে
শুকনো মুখে পেটে খিদে চেপে বন থেকে ফিরে এসেছিল
তার সঙ্গে আজ আমার দেখা হলো।

সে বলল,
সেই কবে থেকে আমার নিন্দেমন্দ শুনে আসছি।
বিদ্যাসাগর মশাই পর্যন্ত ছাড়লেন না
ঈশপের গল্প— কথামালায় ছেপে দিলেন
আমার ব্যর্থতার কথা!
‘আঙুর ফল টক–‘ এই বলতে বলতে আমি বন থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম হতাশা নয়, ক্ষোভে।
আপনারা তার অনুবাদ করে পণ্ডিতি দেখালেন, পান না তাই খান না।

আমি যে কতভাবে কতবার কত শ্রমে ঘামে লাফ দিয়ে আঙুরের থোকাগুলোর কাছে পৌঁছে চেয়েছিলাম!
লাফ দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়লাম,
সেটাকে আপনারা গুরুত্বই দিলেন না।
আমার অসফলতাকে প্রাধান্য দিয়ে বললেন,
আঙুর ফল টক– এসব ঠকবাজি কথা।
আসলে খেতে পারেনি সেটাই এই বলে ঢাকতে চেয়েছে।

মাও-সে-তুং বলেছিলেন,
হারো,ব্যর্থ হও তবুও লড়ো। বারবার লড়ো।
আমি তো লড়েছি,না হয় ব্যর্থ হয়েছি। তাই কি হলো!

পরের ঘটনা আপনারা খেয়ালই করেননি।
মানবচরিত্র তো আমার জানা।
পি এন পি সি তাদের রক্তমজ্জায় মিশে আছে।
পরেরবার ক্ষেতে গিয়ে দেখি—
আরো আরো ফলের ভারে আঙুরের থোকা অনেক নিচে নেমে এসেছে।
এক লাফে আমি সেই থোকা পেড়ে ফেলেছি।
আগে যে আঙুরগুলো টক ছিল,
খেয়ে দেখি তা মিষ্টি হয়ে গিয়েছে।

দূরে দেখি, মাও সে তুং দাঁড়িয়ে রয়েছেন!