অবতক খবর,২০ জুলাই: কাঁচরাপাড়া সিটি বাজার,এই অঞ্চলের একটি অন্যতম বাজার। দূর দূরান্ত থেকে চাষীরা, সব্জি ব্যবসায়ীরা এই বাজারে সব্জি এনে পাইকারি বিক্রি করে। এই বাজার কাঁচরাপাড়া খেটে খাওয়া মানুষদের অর্থ যোগায়, এই অঞ্চলে বাজারের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এই বাজার দেখভালের দায়িত্ব যাদের রয়েছে অর্থাৎ বাজার কর্তৃপক্ষ এটার যথাযথ দেখভাল করছেন না। এইখানে যে একটা জনস্বাস্থ্যের ব্যাপার জড়িত সেদিকে তাদের বিন্দুমাত্র নজর নেই।

এই লকডাউন পিরিয়ডে আমরা দেখছি যে যত আবর্জনা,জঞ্জাল, বাজার সাফসুতরো করে যে আবর্জনা তা এক জায়গায় করে সেটি ১০০ বাই২০০ ফুট জায়গায় সেই ময়লা স্তূপীকৃত হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। তার থেকে পচা দুর্গন্ধ নির্গত হচ্ছে তো বটেই এবং যেখানে এই আবর্জনার স্তূপ রয়েছে তার দুই পাশে বসতি অঞ্চল রয়েছে। অর্থাৎ এখানে পুরোদমে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

এই যে করোনাকালে মানুষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে বলা হচ্ছে তাহলে এই সিটি বাজার অঞ্চলে এটা কি ঘটনা ঘটছে? এই যে তিন-চার মাস ধরে এই আবর্জনা স্তূপীকৃত হয়ে পচা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে এর সাফাইয়ের দায়িত্ব কার? কে জনস্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য করবে? প্রায়ই প্রচার দেওয়া হচ্ছে যে কাঁচরাপাড়া নির্মল নগরীতে পরিণত, তবে এই কি তার উদাহরণ?
বাজার কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে অধিবাসীরা বারংবার অভিযোগ জানিয়েছেন এবং মহিলারা আমাদের সামনে দল বেঁধে এসে অভিযোগ করেছেন যে তারা বারবার জানানো সত্ত্বেও এই বাজার কর্তৃপক্ষ এবং পৌর প্রশাসন পুরোপুরি উদাসীন।
উল্লেখ্য যে,এই সিটি বাজারটি মূলত রেলের জমির উপর অবস্থিত। সেই কারণে এই আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্ব কার এই নিয়ে একটা সংশয় দেখা দিয়েছে জনসাধারণের মধ্যে।
অন্যদিকে এই আবর্জনার স্তূপের বিষয় নিয়ে সেখানকার অধিবাসীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। হালে কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে ওই আবর্জনার স্তূপ থেকে নোংরা ময়লা নিয়ে ওই অঞ্চলেই অবস্থিত স্পলডিং মাঠে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু এটা কারা করছে কিভাবে করছে আর কে রয়েছে এর পিছনে তা কিছুই জানা যায়নি। স্পল্ডিং মাঠের আশেপাশের অধিবাসীরা পচা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তবে সেখানকার অধিবাসীরা ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করা শুরু করেছেন।

এ বিষয়টি নিয়ে যখন আমরা বাজার কমিটির সদস্য সেন্টু বাবুর সঙ্গে কথা বলি তখন তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন যে,এই নোংরা আবর্জনা রেল প্রশাসনের মদতেই স্পল্ডিং মাঠে ফেলা হচ্ছে।
উল্লেখ্য , ওই মাঠে এই শহরের নিয়মিত যারা শরীরচর্চা ও মনিং ওয়াক করতে বা যে সকল ছেলেরা সেখানে খেলতে যায়, প্র্যাকটিস করতে যায়,এই দুর্গন্ধের কারণে তাদের সেখানে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। ওই মাঠে যে ক্ষুদিরাম বোস ইনস্টিটিউট রয়েছে, সেটির যারা দেখভাল করেন তারাও সেখানে থাকতে পারছেন না। মাঠটির চারিদিকে ঘনবসতি। ফলে সেখানকার অধিবাসীদের পচা দুর্গন্ধে থাকা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর প্রতিকার কি?

একদিকে করোনা এবং অন্যদিকে এই বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এই দুটি স্থানের অধিবাসীরা জানাচ্ছেন যে, তারা কি করবেন, কার কাছে যাবেন,কে তাদের এই নিয়ে সাহায্য করবে তা তারা বুঝতে পারছে না।










