মন রে আমার!
রাত তো এলো। চলে গেল সকাল বিকেল।
এখন জীবন আমার ভাঙা দু’চাকার সাইকেল!

বাংলা-উড়িষ্যা সীমান্তে দাঁতনের মাঠে পড়ে আছে
সাইকেল চলে গেছে বাংলাদেশের খুলনার হাটে

সাইকেলের কবিতা
তমাল সাহা

সাইকেল নিয়ে কবিতা লেখা যায় ভাবিনি।
সবুজ সাথী সাইকেল সে এক কাহিনী!
খোঁজ নিয়ে দেখেছি
বেশিরভাগ সাইকেল বিক্রি হয়ে গিয়েছে দোকানে।
টেন্ডার যারা পেয়েছিল কাটমানি ও কমিশন ছিল
এর পেছনে।

হাজার হাজার সাইকেল পড়ে আছে
বাংলা-ওড়িশার সীমানা
৬০ নং জাতীয় সড়কের পাশে দাঁতনে।
নিরুপায় অসহায় পরিযায়ী শ্রমিক–
পরিবহন বন্ধ, ক্ষুধা-তৃষ্ণা ভুলে সাইকেল চালিয়েছিল সারাদিন সারারাত।
কতদিন পরে জুটবে
ঘরওয়ালির হাতের একমুঠো ভাত!

চলে গেছে রুজি, চলে গেছে দানাপানি
চোখে ভাসে শুধু পরিবারের মুখখানি।
ছোটে জোরে পরিযায়ী, রাতের গভীর অন্ধকারে,
হয়ে যায় যদি জানাজানি।

তাও পড়ে গেল ধরা সীমানা দাঁতনে।
এবার কোভিড পরীক্ষার তাড়া—
থাকো ক্যাম্পে চৌদ্দদিন কোয়ারেন্টিনে!
সাইকেল ফেলে ক্লান্ত দুর্বল শরীরে ফিরে আসে,
ফিরে আসে পায়ে হেঁটে অথবা গাদাগাদি কোন সরকারি বাসে।

পেট আছে, দানাপানি নেই,
সাইকেলে গুঁড়িয়ে কি চিবিয়ে খাবো?
এখন না খেয়ে সশরীরে মৃত্যুর কাছে চলে যাবো।

এখনো হাজার হাজার বেওয়ারিশ সাইকেল
পড়ে আছে দাঁতনের মাঠে।
ভাঙাচোরা দেহে তার ধরে আছে জং—
এই যান্ত্রিকশয্যা দেখে মনে হয়
ভারতবর্ষ যেন দাঁড়িয়ে আছে সামনে আমার
সাইকেল রূপে নয়া গণতান্ত্রিক সঙ্!

আমার স্বদেশ ভারতবর্ষ,হায়!
তুমি কি সেরে ফেলছো দায়?
তুমি কি প্রশ্ন করেছো,
সাইকেল তো রইলো পড়ে রাস্তায়
পরিযায়ী মানুষগুলো গেল কোথায়?