অবতক খবর, রাজীব মুখার্জী, হাওড়া :: হাওড়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে বদল হয়েছে। অরূপ রায় এর পরিবর্তে সভাপতির পদে বসানো হয়েছে জেলার অন্যতম মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে। এর পরেই হঠাৎ হওয়া হাওড়া জেলা তৃণমূল পার্টি অফিসের বোর্ড। তার পরিবর্তে ঝুলানো হল অরূপ রায় নামাঙ্কিত নতুন বোর্ড। অর্থাৎ জেলা পার্টি অফিসের সামনে যে বোর্ডের এতদিন লেখা থাকত হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি সেই বোর্ডের এবার থেকে লেখা থাকবে ‘অফিস অফ অরূপ রায়।’ হঠাৎ এই বদল এর পরেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তৃণমূলের জেলাস্তরে। সভাপতির সঙ্গে তবে কি অরূপ রায় এর দূরত্ব এবং দলের সিদ্ধান্তে খুশি হতে না পেরে সাইনবোর্ডের বদল!

চাপা গুঞ্জন এড়াতে সংবাদিকদের অবশ্য অরূপ রায় জানান, জেলা পার্টি অফিসের কাজকর্ম এখান থেকেই হবে। কিন্তু যেহেতু পার্টি অফিস যে বাড়িটিতে সেটির মালিক অন্য কেউ তাই তিনি চান এটি যেন অরূপ রায় ব্যবহার করেন। কারণ তাকে দেখেই সঠিক ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছিল। তার ইচ্ছার মান্যতা দিতেই বোর্ডের বদল বলে অরূপ রায় জানন। তবে এখান থেকেই তৃণমূলের কাজকর্ম হবে বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন তিনি। কিন্তু যদি এখান থেকেই তৃণমূলের কাজকর্ম হয় তবে এই বোর্ড বদল এর কারণ কী তা নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা থাকছেই।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই তার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন রাজ্যের আর এক মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জী। উঠে এসেছিল দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবার বিষয়।সেজন্য কি সভাপতির পদ থেকে সরতে হল অরূপ রায়কে। এবিষয়ে অরূপ বাবু জানান,দল যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা তিনি মানবেন।চিরকাল কাউকে সভাপতি থাকতে হবে এরকম কোন মানে নেই।আর দুর্নীতিকে তিনি কোনোদিন প্রশ্রয় দেননি।তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারের কথাও শোনা যাচ্ছিল।এবিষয়ে তিনি বলেন যে কিছুলোক এসব মনগড়া কথা বলছে।অন্যদিকে তিনি আরও বলেন যে দলে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই।একসাথেই তারা কাজ করে ২০২১ বৈতরনি পার করবেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে হাওড়া সদরের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়কে।চেয়ারম্যান হবার পর আজ জেলা পার্টি অফিসে আসেন তিনি।সঙ্গে ছিলেন তার অনুগামীরা।চেয়ারম্যান হবার পর আজ নতুন করে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে দেখা গেল অরূপ রায়কে।কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন অফিসে প্রবেশের সময়। আজ থেকে এই অফিসে চেয়ারম্যান এর বোর্ড টাঙানো হল।









