রাষ্ট্র জুড়ে রাষ্ট্রনায়কদের ভণ্ডামির নাটক চলছে, চলছে রাজনৈতিক নেতাদের নাটক, শাসকের দালাল লেখক কবিরাও দারুণ সফল নাটক করে যাচ্ছে…
তিনি শিশির ভাদুড়ী, তিনি করেছিলেন অন্য চেতনার নাটক। জন্মেছিলেন ২ অক্টোবর ১৮৮৯। চলে গিয়েছেন ৩০ জুন ১৯৫৯।

শিশিরের নির্মাণ কত গভীর!
তমাল সাহা

দিন যত যায় বড় হই না আর, ক্রমাগত আরো ছোট হতে থাকি। ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে পড়ি। বেলা বাড়লে ছায়া বড় না ছোট হয়— এই বিজ্ঞান বা মনস্তত্ত্ব অথবা দর্শন বুঝিনা কিছুই।

বিনত আর বিনীত শব্দ দুটি হঠাৎ মনে ভেসে ওঠে। শব্দ দুটির সুরত হাল করলে কি পাওয়া যায়?

মেট্রোপলিটন-বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপনার মতো অত বিশাল অর্থবান চাকরি ছেড়ে দিয়ে কিভাবে অত বড় মাপের মানুষ মঞ্চের নোকর হয়ে যায়?
সেট আলো মঞ্চ– আধুনিকতার সবই ছিল তার মাথায়। এসবই লেখা আছে বইয়ের পাতায়।
‘আমি পড়ি বেশী লিখি কম’, বলেছিল সে। আমাদের স্বভাব প্রকৃতি ঠিক উল্টোরকম। আমি ভাবি আমার অসহায়তার কথা।

আলমগীর, চাণক্য হতে পারে সে। ওদিকে রামচন্দ্র, রঘুবীর, চন্দ্রনাথ, আরো কতসব চরিত্রে সংলাপে মঞ্চে হেঁটে চলে সে দাপটে।
থিয়েটারে বাস্তববাদ ও প্রকৃতিবাদের পথিকৃৎ ছিল।সে না এলে মঞ্চের পেছনে হাতে আঁকা সিন টাঙিয়েই নাকি এখনো অভিনয় করতে হতো!

বুকে শুদ্ধ অম্লজান থাকলে মানুষ কি না করতে পারে? জাতীয় নাট্যশালা গড়তে চেয়েছিল সে। তো! আশা পূরণ হলো না। প্রত্যাখ্যান করল পদ্মশ্রী, নাট্য একাডেমীর সভাপতির পদ। একটি শব্দ ব্যবহারিক হয়ে উঠল আমার কাছে– হিম্মত।

আমি তখন একদমই বোধহীন নির্বোধ বালক। তাঁর নামটি আমাকে প্রথম শুনিয়েছিলেন আমাদের ইংরেজির মাস্টারমশাই সুশীলকুমার কুশারী। তিনি খুব ভালো ইংরেজি জানতেন। ছিলেন সেসময়ের মানে ইংরেজ আমলের গোল্ড মেডালিস্ট। তিনি কত শব্দের অর্থ জানেন এটা আমরা পরীক্ষা করতুম সেই অকালে পেকে ওঠা বয়সে। একদিন একটি ইংরেজি শব্দের অর্থ জানতে চাইলে তিনি বলেন, শোনো একটি গল্প বলি। শিশির ভাদুড়ী মহাশয়ের কাছে কলেজে একটি ছাত্রও এমনই একটি শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছিল। জানো, উত্তরে ভাদুড়ী মশাই কি বলেছিলেন? বলেছিলেন, সবই কি আর আমি জানি? কাল ডিকশনারি দেখে এসে অর্থটা ঠিক বলে দেবো।

শিশির ভাদুড়ীর লেখাপত্র খুব কম। তিনি বলতেন, আমি সাহিত্য করি না, সাহিত্য লিখিনা, আমি সাহিত্য বলি।

শিশির পতনের কোনো শব্দ হয় না। তবুও সকালে শিশির দেখি পড়ে আছে ঘাসের আগায়, গাছের পাতায়। কিভাবে হয় শিশিরের নির্মাণ তার কতটুকু আমি জানি!