শিক্ষক নিয়োগ ও পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতির মাঝেই সামনে এলো বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করে দেওয়ার নামে কনসালটেন্সি সংস্থার প্রতারণা চক্র

অবতক খবর,২৯ আগস্টঃ শিক্ষক নিয়োগ ও পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতির মাঝেই সামনে এলো বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করে দেওয়ার নামে কনসালটেন্সি সংস্থার প্রতারণা চক্র । উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া, জগদ্দল, বারাসাতের বেশ কিছু যুবক যুবতীর অভিযোগ উত্তরপাড়া থানা এলাকার হিন্দমোটর বিবেকানন্দ পল্লীর বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা দাস নামে এক মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কনসালটেন্সি ফার্ম এর নামে বিজ্ঞাপন দেন যে তাদের ওই কনসাল্টেন্সি ফার্মের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যাংকে নিয়োগ করা হয় ।

পরবর্তী সময়ে ওই বিজ্ঞাপন দেখে বেশ কিছু বেকার যুবক-যুবতী অভিযুক্ত প্রিয়াঙ্কা দাস এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি চাকরি দেওয়ার নামে তাদের থেকে নগদ এবং ইউপিআই ট্রান্সফার করে বহু টাকা ফিস বাবদ নিলেও কারোর চাকরি হয়নি। প্রতারিত হওয়া যুবক-যুবতীদের মধ্যে গৌরব দেবনাথ নামে এক যুবক বলেন বহু টাকা আমাদের থেকে নেওয়া হলেও দিনের পর দিন আমাদের প্রতারিত করা হয়েছে । চাকরির ইন্টারভিউ করার নামে বেসরকারি ব্যাংকটির কলকাতার বিভিন্ন শাখায় তাদের ডাকা হয় এবং এবং সেখানে জব এপ্লিকেশন এপ্লিকেশন ফর্ম ফিলাপ করানো হয় । পরবর্তী সময় বারংবার বলা সত্বেও অভিযুক্ত প্রিয়াঙ্কা দাস তাদের কাউকে চাকরিতে নিয়োগ করেনি অথবা টাকা ফেরত দেয়নি । গোটা ঘটনা ইতিমধ্যে জগদ্দল থানা এবং বারাসাত থানায় লিখিত আকারে অভিযোগ করা হয়েছে । তবে এইভাবে প্রতারিত হয়ে প্রতারক অভিযুক্ত প্রিয়াঙ্কা দাস ও প্রতারণা চক্রের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি এবং টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন গৌরব দেবনাথ সহ প্রতারিত যুবক-যুবতীরা ।

তবে এই ঘটনা জনসমক্ষে আসার পরেই শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক তরজা । বিজেপির রাজ্য নেতা প্রণয় রায় বলেন বিগত ১২ বছরে এ রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ হোক বা পৌরসভায় নিয়োগ সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রমাণিত সত্য চাকরি বিক্রি হয়েছে। যা দেখে কিছু মানুষের ধারণা হয়েছে টাকাপয়সা দিলেই চাকরি পাওয়া যায় । এবং এই ধারণার সুযোগ নিয়ে শাসক দল ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে চাকরি প্রতারণা চক্রের রেকেট গোটা রাজ্যে কাজ করছে ।

ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি পুলিশের নলেজে রয়েছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত পুলিশের কোন সদর্থক ভূমিকা চোখে পড়ছে না।

এই বিষয়ে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী বলেন এই ধরনের প্রতারণা চক্রের খবর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রশাসনকে পুলিশকে জানানো উচিত না হলে প্রতারকরা আরো বেশি মানুষকে প্রতারণা করার সুযোগ পেয়ে যান । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সমস্ত থানা এলাকার ওসি লেভেলের পুলিশ অফিসারদের পর্যন্ত কড়া নির্দেশ দিয়েছে এই ধরনের ঘটনা সামনে এলেই প্রশাসন তার বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ এবং উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবেন ।