অবতক খবর , রাজীব মুখার্জী, হাওড়া : ফের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হলো এক করোনা আক্রান্ত রোগীর। মৃত ওই যুবকের নাম সন্তোষ কুমার হরিজন (৩২)।

গতকাল হাওড়া লিলুয়ার গুহ পার্কে এক যুবকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তার অত্যাধিক শ্বাসকষ্ট হতে থাকে গতকাল রাত থেকে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোন এম্বুলেন্স কোন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী পাওয়া যায় নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় লিলুয়া থানায় জানানো হলেও সেখান থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ায়নি কেউ। আজ সকালে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্রের খবর গতমাসের ২৩ তারিখে তার কোভিড টেস্ট করা হয়। ওই মাসের ২৫ তারিখে তার রিপোর্টে করোনা পজেটিভ আসে। সেটা জানা সত্বেও সত্যবালা আই ডি হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তার মৃত্যুর ৭ ঘন্টা অতিক্রান্ত হলেও তার মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি বলেই অভিযোগ।
এই ঘটনার প্রতিবাদে পথ অবরোধে নামে সাধারণ মানুষ, সিপিএম ও বিজেপি কর্মীরা। স্থানীয় সিপিএম নেতা সমীরণ চ্যাটার্জি জানান গতকাল রাতে সন্তোষ হরিজন নামের একজন যুবক মারা গেছে। তার বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতে এই বিক্ষোভ হচ্ছে। তিনি আরো দাবি করেন গতকাল তার চিকিৎসার জন্য কোনো এম্বুলেন্স, চিকিৎসক পাওয়া যায় নি। থানায় জানানো হলে পুলিশও দায় এড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন করোনা আতঙ্কে মানুষের যে অবক্ষয় হয়েছে যে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এম্বুলেন্সও আসছে না। গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে অবনতি তার জন্য এই বিক্ষোভ চলছে আজকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন পুলিশ দলদাসের কাজ করছে। কালকে যখন ওই ব্যক্তির সাহায্যের জন্য পুলিশ কে জানানো হয়েছিল তারা আসে নি আর আজকে মানুষ রাস্তায় নেমে সেই যুবকের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তখন পুলিশ লাটি উঁচিয়ে গায়ের জোরে বিক্ষোভ ভাঙতে আসছে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন যে সমস্ত মহিলারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তাদের সরাতে আলাদা করে মহিলা পুলিশ আনা হয় নি। কোনো সামাজিক দূরত্ব পুলিশ মানে নি। তিনি আরো বলেন কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কে জানিয়েছিলেন তার রাজ্য সমস্ত কোভিড রোগীর বিনা পয়সায় চিকিৎসা করাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হল খুবই খারাপ বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন রাজ্যে করোনায় মৃত্যু হলে ৭-৮ দিন বাদে তার সৎকার করা হচ্ছে। রোগীরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই এই সরকার ব্যর্থ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিলুয়ার থানার অন্তর্গত রবীন্দ্র সরণি রোড অবরোধ করলেন সিপিআইএমের কর্মীরা। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক অবরোধ চলার পর পুলিশ এসে অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। সিপিএম কর্মীদের অভিযোগ রাজ্য প্রশাসনের অমানবিকতার জন্য সাধারণ মানুষের প্রাণ চলে যাচ্ছে। এই অব্যবস্থার জন্য আজকে তারা পথে নেমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৈফিয়ৎ দাবি করছেন।









