আমার এই জীবনে কত কী ঘটে যায়!

রুমিদি বড়দিন এবং আমি
তমাল সাহা

হেমন্ত বেলা চলে গেছে। মানে পাতা ঝরার দিন শেষ। এখন শীতের বেলা। হাড় হিম হয়ে আসে। এ ঝুঁকে পড়া সময়ে কবিতা সব সময় আমার পাশে থাকে। আমার জীবনে যতই হোক না বিপর্যয় এগুলি লটারিতে পেয়েছি আমি– মা-কে, রুমিদি-কে, মনসৃজা কবিতা-কে।

বড়দিন এলে রুমিদির কথা খুব মনে পড়ে। রুমিদির সার্টিফিকেটে Rumi লেখা থাকলেও এমনিতে কোথাও স্বাক্ষর করতে গেলে কোনো সভা সমিতির অনুষ্ঠানের উপস্থিতিতে রুমিদি লিখতো Roomy. একদিন বলি Rumiকে কেন লেখো Roomy?
ও তুই বুঝবি না। তবে তোকে বলি, তুই রুম শব্দটার অন্তর্নিহিত অর্থটা একবার বোঝার চেষ্টা কর। আর শোন রুম মানে আশ্রয় ও ঘর।
এসব দর্শনসুলভ আশ্চর্য অনুভব আমি কি তখন বুঝি? আমি শুধু রুমিদির দিকে তাকিয়ে থাকি।
তুমি কত বড় রুমিদি! আমার তখন তাকে স্বাতী নক্ষত্রের মতো মনে হয়।

তুমি বলেছিলে, খ্রীষ্টমাস তোর ভালো লাগে, না বড়দিন ভালো লাগে?
আমি বলি, বড়দিন।
শোন, রবীন্দ্রনাথ বড়দিন লেখায় বলেছিল, শুধু গির্জায় গেলে হবে নাকি? এখন গির্জার বাইরে রক্তপাতে ভিজে যায় দেশ। এই দিন আনন্দের নয়, শোকাবহ দিন। মনের দিক থেকে বড় নাহলে এ আবার কিসের বড়দিন? যীশুর জন্মদিনকে প্রথম বড়দিন বলে ভাষ্য দিয়েছিল আমাদের ভাগীরথী পারের ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। বড়দিন নামে তার কবিতা আছে। আমার মনে হয় বড়দিন এই নামে তিনিই প্রথম বাংলায় কবিতা লেখেন।
কবিতাটার কিছু অংশ পড়ছি শোন—
খৃষ্টের জনম দিন, বড়দিন নাম।
বহু সুখে পরিপূর্ণ, কলিকাতা ধাম।।
কেরাণী দেয়ান আদি, বড় বড় মেট।
সাহেবের ঘরে ঘরে, পাঠাতেছে ভেট।।
…………………………
প্রভুর শোণিত মাংস, কাল্পনিক করি।
আহারে আহ্লাদ পান, যত মিশনরী।।
টেবিল সাজায়ে সব, ভাবে গদগদ।
মাংস বোলে রুটি খান, রক্ত বোলে মদ।।
ভুবন কোরেছে বদ্ধ, কুহকের ডোরে।
হায়রে “কুমারী পুত্র” বলি হারি তোরে।।
………………….
জমকে পোশাক করি, গাড়ি আরোহণে।
চর্চে এ যান সুরূপসী, শ্রীমতীর সনে।।

আমি রুমিদির দিকে তাকিয়ে থাকি। সবাই যদি জীবনে এমন একটা রুমিদি পেতো!
পরে জেনেছি রুমি মানে রমণীয় লাবণ্য বা সৌন্দর্য। আহা, আমার রুমিদি!