স্মৃতি-শ্রুতির সুবর্ণ জয়ন্তীঃকবিতার পাণ্ডুলিপি, পরিচালনায় কাজল সুর

১২ জুলাই, ২০২২, মঙ্গলবার

রবীন্দ্র সদন, কলকাতা থেকে ফিরে—অবতকের প্রতিবেদন 

কবিতা উড়িয়ে হেঁটে যায় কবিতা বাহক 

অন্ধ তিমির বিস্তীর্ণ হতে থাকে দক্ষিণ সমুদ্রের দেশ ভারতীয় চরাচরে। সিংহল দ্বীপ থেকে উঠে আসে হুতাশন তাণ্ডবীয়

বাতাস। আমাদের মানচিত্রের গায়ে লাগে তার উত্তাপ, ঝরে পড়ে তার আগ্নেয় শ্বাসপ্রশ্বাস।

সেখানে ওঠে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিস্পর্ধী দুর্বার প্রজাদের রাজধানীর দিকে যাত্রার পদধ্বনি।

ঠিক এই সন্ধিক্ষণে কাপালিক সময় যখন খড়্গ হাতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস স্বৈরাচার সম্প্রদায় শব্দসমূহের বৈচিত্র্যকে খান খান করে সাম্প্রদায়িকতার মাঠে নেমে পড়ে, ধর্মীয় বিভাজনের বিধ্বংসী পতাকা উড়তে থাকে এই উপমহাদেশে তখন শত শত কবিতার ডালপালা প্রসারে জীবনের অম্লজান নিয়ে তার সেনাপত্যে কবিতারা ধাবিত হতে থাকে মাটি ও মানুষের দিকে।

অসুস্থ অবমানিত অপমানিত নিপীড়িত লাঞ্ছিত পৃথিবীকে নিরাময় করতে পারে শুধু কবিতা। এ ঘোষণা সোচ্চারিত করতে চায় কাঁচরাপাড়া- হালিশহর জলবায়ু অধ্যুষিত শহরতলি থেকে উঠে আসা এক জাতক ভূমিপুত্র। মাটিতে সে পা রেখেছিল, মিছিলে হেঁটেছিল। ব্রিগেডে লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে সে ছুঁড়ে দিয়েছিল কবিতায় সোচ্চারিত শব্দবাণ। সে হয়তো ফিরে পেতে চায় সেই সম্মুখ সমর ও সেই সময়ের উজ্জীবন।

স্মৃতি শ্রুতির সুবর্ণজয়ন্তীতে আবার সে নেমে পড়ে রবীন্দ্র সদনীয় ময়দানের মঞ্চে। নতুন পরীক্ষা নিরীক্ষায় মঞ্চ তখন গবেষণাগার হয়ে ওঠে। বিনা মহড়ায় তাৎক্ষণিক চিন্তার বৈদগ্ধ্যে সে অনুসন্ধান চালায় কবিতার কুশীলবদের নিয়ে। কবিতাবাহীরা ফৌজ গঠন করে। তাদের কন্ঠ থেকে বেরিয়ে আসে প্রেম প্রতিবাদ দ্রোহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সংগ্ৰাম শ্রমিষ্ঠ জীবনের অন্যমাত্রার কাব্যিক উচ্চারণ। মঞ্চে অলক্ষ্যে এসে দাঁড়ান ঈশ্বর গুপ্ত রবীন্দ্রনাথ জীবনানন্দ সুভাষ মুখুজ্জে দীনেশ দাস বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শঙ্খ ঘোষ সুকান্ত শক্তি সুনীল তারাপদ সুবোধ খ্যাত অখ্যাত কতসব মৃত জীবিত কবির দল। আসলে কবিতা মরে না, কবিতা অবিনশ্বর। সময়, খেটে খাওয়া মানুষ, গুলিবিদ্ধ তরুণ, ধর্ষিতা নারী, বেশ্যার জীবন,খেতেখামারের জন এবং শেষ পর্যন্ত পথ দেখায় রাস্তা। তাই রাস্তার কথা বারবার উঠে, উঠে আসে সলিল চৌধুরীর পথে এবার নামো সাথী কবিতার পাণ্ডুলিপিতে।

বিনা প্রস্তুতিতে কবিতা-বাহক সঞ্চালক মালা গাঁথতে থাকে। প্রশিক্ষিত আবৃত্তিকারের দল কন্ঠ নিঃসৃত কাব্যধ্বনির মধ্য দিয়ে এখন আর কোন বাচিক শিল্প নয় তা এখন আর বাচনিক হয়ে ওঠে না– আবৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে হয়ে ওঠে সময়ের আবৃত্তি।কন্ঠের গভীরতায় স্বরের বিস্তীর্ণ বৃত্তায়নে চলতে কবিতার জয়যাত্রা।

সন্ধ্যা ঘনীভূত আকাশের চন্দ্রাতপে তখন

নক্ষত্ররা বলে চুপি চুপি।

কবিতা পাণ্ডুর হয় না কখনো লিখে চলে সময় ও জীবনের পান্ডুলিপি।

তুমি পথে নামো চলো ময়দানে দেখো কোন সুর আসে ভেসে তোমার কানে।

পড়ে আছে শতশত লাশ,

তুলে নাও তাকে পবিত্র প-বর্ণ জুড়ে দাও তাতে, সে হয়ে উঠুক পলাশ।

শব্দ তো করো অনেক উচ্চারণ–শব্দের ভেতরেই লুকিয়ে আছে শব।

তুমি মুখ ফেরাও মাটি ও মানুষের দিকে

শোনো জনকল্লোল জীবনের কলরব।