মুড়ি ভেজে সংসার চালায় মানুষ। নারীশ্রমে চলে পরিবার। তার চিত্র দেখুন
মুড়ি ও পরিবার
তমাল সাহা
ঝকঝকে তকতকে উঠোন–
গোবর-মাটি দিয়ে নিকোনো।
চারদিকে রাংচিতের বেড়া
একদিকে একটি
মাথা ঝোপড়া তালগাছ।
তারপাশে একটি উনুন
মায়ের নিজের হাতে গড়া।
একটি ছোট চৌকির উপরে মা বসে।
পাশে চেলাকাঠ, লোহার কড়াই
এক গামলা বালি, নারকেল কাঠির উছানি,
একটা শূন্য বেতের ঝুড়ি আরেকটা ঝুড়িতে কাপড় পেতে ভেজা চাল রাখা।
মা উনুন ধরিয়ে একটা জ্বলন্ত চেলাকাঠ
উনুনের তিনটে ঝিকে ছুঁইয়ে বলতো,
এরা হলেন ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর—
আগুনেরকারিগর।
তারপর উনুনে কড়াই চাপিয়ে
তাতে পরিমাণ মতো বালি ঢেলে দিত।
মায়েরা আগুন পরিমাপের মন্ত্র জানে।
কখনও কাঠ গুঁজে দেয় কখনো জ্বলন্ত চেলা কাঠ উনুনের থেকে সরিয়ে আনে। আঁচ উস্কানোর কমানো-বাড়ানোর খেলা।
কড়াইয়ে নিড়েন কাঠির চালনা,
লাল লাল মুড়ি ফুলতে থাকে,
লাফিয়ে ওঠে কোনো কোনো মুড়িদানা
কড়াইয়ের ভেতর।
মা শূন্য ঝুড়িতে চালুনি
পেতে ঢেলে দেয় মুড়ি।
আমরা ভাই বোনেরা দাঁড়িয়ে দেখি
মুড়ি বানানোর কৌশল,
মা বাটিতে করে গরম মুড়ি খেতে দেয়
সঙ্গে কয়েকটি বাতাসা।
মা বলে, তাহলে কি দেখলে?
মুড়ি তৈরিতে লাগে
উনুন,বালি,চাল,নিড়েন,আগুন
আরো কয়েকটি অনুষঙ্গ।
বাবা পেছন থেকে বলে উঠলেন,
না, না, হলো না।
যতই উপাদান অনুষঙ্গ প্রস্তুত থাকুক,
মা ছাড়া কিন্তু মুড়ি হবে না।
মা হলো অগ্নিহোত্রী।









