মানবিক রূপ জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়ার, খবর দেখে জানতে পেরে বকেয়া বিল মিটিয়ে আহত পরিযায়ী শ্রমিককে অ্যাম্বুলেন্সে করে নার্সিংহোম থেকে ফেরালেন গ্রামের বাড়িতে

অবতক খবর,মালদা;সানু ইসলাম;১৫ ডিসেম্বর: জেলা শাসকের উদ্যোগে আহত পরিযায়ী শ্রমিককে নার্সিংহোমের বিল মিটিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফেরানো হলো বাড়িতে। জেলাশাসককে ভগবান তুল্য আখ্যা দিলেন পরিবারের লোকেরা। খুশি এলাকাবাসীও। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের পিপলা গ্রামের বাসিন্দা পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক গণেশ দাস ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি ফেরার সময় হরিশ্চন্দ্রপুর স্টেশনে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে গুরুতর আহত হন।পায়ে চোট থাকায় তার অস্ত্রোপচার হয় বিহারের পূর্ণিয়ার একটি নার্সিংহোমে।গণেশ দাসের পরিবার অভাবী পরিবার। অতি কষ্টে এলাকার মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে গণেশের অস্ত্রপচার করান।

কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে এক মাসে নার্সিংহোমের বিল হয় লক্ষাধিক টাকা। সেই বিল দিতে পারছিলেন না গণেশের পরিবারের লোকেরা। হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় অর্থ সাহায্যের জন্য দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছিলেন গণেশের শাশুড়ি এবং মা। সেই খবর সম্প্রচারিত হয় সংবাদমাধ্যমে। তারপর গতকাল গণেশ দাস কে গিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে আর্থিক সাহায্য করেন জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খান।

এবার সেই খবর দেখতে পেয়ে আহত পরিযায়ী শ্রমিককে নার্সিংহোম থেকে বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করলেন মালদার জেলা শাসক নীতিন সিংহানিয়া। নার্সিংহোমের বকেয়া বিল মিটিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে গনেশ দাস কে পূর্ণিয়া থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে জেলাশাসকের উদ্যোগে ফিরিয়ে আনা হলো তার পিপলার বাড়িতে। ছেলেকে পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন গনেশ দাসের বৃদ্ধা মা। বাবাকে দেখতে পেয়ে খুশি তার দুই নাবালক সন্তানও। জেলাশাসকের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে এলাকার মানুষ।

পরিযায়ী শ্রমিক গণেশ দাস বলেন, বাইরে কাজ করি। ট্রেনে ফেরার সময় হরিশ্চন্দ্রপুর স্টেশনে দুর্ঘটনা ঘটে। পায়ে অপারেশন হয়েছিল। প্রায় দের লক্ষ টাকা বিল মেটাতে পারছিলাম না তাই আমাকে ছাড়ছিল না। জেলাশাসক সব কিছু ব্যবস্থা করে আজ আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। উনি আমাদের কাছে ভগবান।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদল দাস বলেন, গরিব মানুষের এটা খুব উপকার করলেন জেলাশাসক। ওরা চারিদিকে অর্থ সাহায্য তুলতে যাচ্ছিল। কিন্তু এতটা অর্থ জোগাড় করতে পারছিল না। এই উপকার সকলে মনে রাখবে।

মালদা জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া জানান, খবর দেখে বিষয়টি জানতে পেরেছিলাম। ওই শ্রমিককে বাড়িতে ফেরানোর সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলাশাসক অর্থাৎ সমগ্র জেলার প্রশাসনিক ভাবে অভিভাবক তিনি। তার উপরেই জেলার গুরু দায়িত্ব। তাই জেলারই এক মানুষের অসহায়তার কথা জানতে পেরে ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলেন তিনি।