অবতক খবর,মালদা;সানু ইসলাম,০৬নভেম্বর: মানবিক মুখ পুলিশের। দুস্থ দিনমজুর পরিবারের মৃত শিশুর শেষকৃত্যের সমস্ত ব্যবস্থাপনা করে দিল খোদ আইসি। আর্থিক সাহায্য থেকে শুরু করে সন্তানহারা অসহায় পরিবারের পাশে দাড়িয়ে খাদ্য সামগ্রীও তুলে দিলো আইসি। পুলিশের এই মানবিক আচরণে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্ডিপুর গ্রামের পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক সাগর দাসের সাত বছরের সন্তান বিশ্বজিৎ দাস মায়ের সাথে এলাকার একটি পুকুরে স্নান করতে যায়। কাপড় চোপড়় কাঁচার সময় মায়ের অলক্ষ্যে হঠাৎই বিশ্বজিৎ পুকুরে তলিয়ে যায়। তার মায়ের চিৎকারে আশেপাশে থাকা স্থানীয়রা ছুটে এসে বিশ্বজিৎকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে।তারপর হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বিশ্বজিৎকে মৃত বলে ঘোষণা করে। ছোট্ট পুত্র সন্তানের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়ে সারা পরিবার।বিশ্বজিতের বাবা সাগর দাস এই মুহূর্তে রয়েছেন ভিন রাজ্যে।দিন আনে দিন খাওয়া পরিবার। সংসারে শুধু অর্থাভাবই নয় রয়েছে খাদ্যেরও অভাব। ছোট্ট ছেলে শেষকৃত্য করার মত টাকা ছিল না মা এবং ঠাকুমার কাছে।এমনকি বিশ্বজিতের দেহ ময়নাতদন্তের পর মালদা মেডিকেল কলেজ থেকে আনার মত সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের।

সেই সময় ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ান হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি দেওদূত গজমের। দেহ আনার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় পরিবারকে। সাথে শেষকৃত্যের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা করে দেন আইসি। এমনকি ওই অসহায় পরিবারকে ব্যক্তিগত ভাবে আর্থিক সাহায্যও করেন তিনি। আইসির এই মানবিক আচরণে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

বিশ্বজিতের ঠাকুমা তুলসী দেবী বলেন,আমার নাতি ওর মায়ের সঙ্গে পুকুরে গেছিল স্নান করতে। ওর মা কাপড় চোপড় ধোয়ার কাজ করছিল। সেই সময় ও কখন পুকুরে নেমে তলিয়ে গেছে বুঝতে পারেনি।আমাদের সংসারে খুব অভাব।শেষকৃত্য করার ক্ষমতা ছিল না। পুলিশ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।