ভোট কতদূর যায়/তমাল সাহা

ভোটের হাওয়া উঠেছে।তৎপর রাজনৈতিক দলেরা। গেরুয়া বাইক মিছিল শুরু হয়ে গিয়েছে গতকাল। রাম মন্দির নির্মাণ প্রায় শেষ। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষা আর বাজারে গরম হাওয়া উঠবার প্রতীক্ষায় আমরা। কিন্তু ভোট আমাদের কতদূর নিয়ে যায়, শুনুন

ভোট কতদূর যায়
তমাল সাহা

ভোট কতদূর যায়।
ভোটের কাছে আমরা প্রতিপদে হারি,
ভোট আমাদের হারায়।

ভোট মন্দিরে মসজিদে যায়।
ভোটের জন্য ধর্মের গুরুত্ব বোঝা যায়।
ভোট ভাতের কাছে না গেলেও ভাতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটারের কাছে যায়।

ভোট বোফর্স-এর কাছে গিয়েছিল,
গিয়েছিল কোলগেটের কাছে,
এবার রাফালের কাছে যায়।
পক্ষ-প্রতিপক্ষ উঠে আসে ভারতের
মৌসুমী বায়ু ভোটের হাওয়ায়।

ভোট বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও,
ন্যাপকিন, সাইকেলের কাছে যায়,
দুটাকা কিলো চালের রেশন পাওয়া যায়।
তুমি কোনমতে পেটে খিল মেরে
বেঁচে থাকো—
রাষ্ট্রের দায়ে নয়,তাহার দয়ায়।

ভোট এলে যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ে,
দেশপ্রেমের জোয়ার বেড়ে যায়।
ভোটের জন্য
তোমার ছেলে সীমান্তে গুলি খায়।
মরণোত্তর শিরোপা উঠে আসে
তাহার মৃত মাথায়।

ভোটের জন্য ঘরছাড়া কুইসলিং নেতাজি কাছে ছুটে আসে
সর্দার প্যাটেল সাহেব পাঁচশ সাতানব্বই ফুট উচ্চতা নিয়ে উঠে দাঁড়ায়।
ভোটের জন্য রাম জন্মভূমি জেগে ওঠে,
হনুমানেরা রাস্তায় বিক্রমে হেঁটে যায়…
ঐ তো ত্রিশূল তলোয়ার স্পষ্ট দেখা যায়।

যারা ছিল খুনি,তারাই আজ
গান্ধিভক্ত গুণী–
গান্ধিচশমা স্বচ্ছ ভারতের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
ভোটের রাজনীতি,গদি দখলের
ফন্দিফিকির বোঝা বড় দায়।

ভোটের সময় ভোটাররা আপনা আদমি হ্যায়,
ভোটের দিন নিশ্চিত বুথকেন্দ্র যাবে চলে
বোমা গুলির পাহারার।

ভোট কতদূর যায়,
ভোটের কাছে আমরা প্রতিপদে হারি,
ভোট আমাদের হারায়।

ভোট ছাড়া আমাদের এই দেশে
অন্যকিছু ভাবা যায়!!