কবি নাজিম হিকমত মানেই জেলখানা। তোমার মৃত্যুদিনে বাঁচতে শিখি।আমার শ্রদ্ধা নিবেদন

ভালোবাসার জেলখানা
তমাল সাহা

জেলকুঠির জানালার
চোদ্দ শিকের গরাদগুলি
স্পর্শ করলে ভালোবাসা
গান হয়ে ওঠে তোমার কাছে।

যেহেতু তোমার কুঠুরির মুখ ছিল পূবের দিকে
এক চিলতে শুদ্ধ রোদ
আছড়ে পড়লেই তা হয়ে উঠতো তোমার বাড়ির উঠোন।

জেলখানার গেরস্থালি
তোমার জীবন হয়ে উঠেছিল।
পারিবারিক জীবনে প্রিয়তমা ছিল
তোমার কাছে মধুর সঙ্গীত
জেলখানায় এসে ভালোবাসার মুখখানি
একান্ত নিকটে এসে যায়–
তা হয়ে ওঠে আরও মধুরতম
তুমি তার ঘনিষ্ঠতম নায়ক হয়ে ওঠো।

তুমি জানতে চাও খামার বাড়ির কথা
শস্যের বেড়ে ওঠা, শিশুদের কলরব, বাগানের গাছগুলো কতটা আকাশ ছুঁলো
আর প্রিয়তমাকে জানিয়ে দাও
এবারের আঠাশ বছরের জেল একটু দীর্ঘতম সময়।

কিন্তু তার পাঠানো হাতেবোনা উলের সোয়েটারে
পৃথিবীর শীতলতম দিনগুলি কেমন উষ্ণতম হয়ে ওঠে
কেননা তাতে মিশে থাকে
প্রিয়তমার হাতের স্পর্শ ও বুননের ধ্রুপদী কারুকাজ।

তুমি চিঠিতে জানিয়ে দাও
বোঁটার ফুল আর
মানুষের উঁচুমাথার তফাত কোথায়
তুমি জানিয়ে দাও,
মানুষের জীবন হবে আকাশে ডানামেলা পাখির মতো
আর বিস্তীর্ণ সমুদ্রের মতো উত্তাল…
নীল চোখে তুমি স্বপ্ন দেখো আদিগন্ত অফুরান নীলের।