বিনয় ভরদ্বাজ, অবতক খবর,৩০ জুনঃ নিজেদের মধ্যে টেন্ডার ভাগ বাটোয়ারার জন্য বোর্ড মিটিংয়ে হাতাহাতিতে জড়ালেন ভাটপাড়ার কাউন্সিলররা। অবস্থা সামাল দিতে পৌর চেয়ারপারসন আলাদা করে বৈঠক করেন। টেন্ডার তাদের কাউন্সিলরের মধ্যে ভাগাভাগি করে সমস্যা মেটালেন। যদিও কাউন্সিলরদের মধ্যে এই টেন্ডারের কাজ ভাগাভাগি করে আপাতত সমস্যা মিটলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কলহ একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে ভাটপাড়া পৌরসভায়।

উল্লেখ্য, ভাটপাড়া পৌরসভায় আজ বৃহস্পতিবার বোর্ড মিটিং ছিল। এই বোর্ড মিটিং-এর চেয়ারপার্সন রেবা রাহার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আনতে শুরু করেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সত্যেন রায়। সূত্রের খবর অনুযায়ী সত্যেন রায় বলেন যে, চেয়ারপার্সন কে কোন কাজের জন্য জানাতে হলে তাঁর পুত্রদের দ্বারস্থ হতে হয়। তিনি আরো বলেন,এই ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কোন কাজের জন্য তিনি গেলে রেবা দেবী কর্ণপাত করেন না। বরং তাকে না বলে তার ছেলেদের অর্থাৎ সঞ্জয় শ্যাম ও বিধায়ক পুত্র সোমনাথ শ্যামকে সমস্ত কাগজে লিখিত জানাতে হয় তার পরে তাঁর হস্তক্ষেপ ঘটে। সত্যেন বাবুর অভিযোগ, পৌর কাজের জন্য আবেদন তাঁর দুই ছেলে গ্রহণ করেন রেবা দেবী নন । তিনি রেবা দেবীর বিরুদ্ধে আরও পক্ষপাত ও টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির প্রশ্ন তোলেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সত্যেন রায়ের অভিযোগকে কোনো কর্ণপাত না করে চেয়ারপা্রসন রেবা রাহা জানান যে,আজকের বিষয় বস্তু ছাড়া কোন অন্য বিষয়ে তিনি আলোচনা করবেন না । রেবা দেবীর হয়ে সত্যেন রায়ের ওপর চড়াও হন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তরুণ সাউ। তিনি সত্যেনকে সতর্ক করেন।কথা কাটাকাটি শুরু হয় তরুন ও সত্যেন মধ্যে। তার মাঝে ঢুকে পড়েন কাউন্সিলর গোপাল রাউত।

জানা গেছে, গোপাল রাউত সত্যেন রায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তরুণের উপর চড়াও হন। তিনি বলেন, চেয়ারপারসনকে একজন কাউন্সিলর তার অভিযোগ জানাতে পারে এ নিয়ে তরুণ সাউ এত লাফালাফি করছেন কেন? কেন তরুণ সাউয়ের বেশি ব্যথা শুরু হয়েছে । আর এতেই তরুণ সাউ ও গোপাল রাউতের মধ্যে কথাকাটাকাটি থেকে অবস্থা হাতাহাতিতে পৌঁছে যায়। চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় বোর্ড মিটিংয়ে।

জানা গেছে,গোপাল বাবু প্রকাশ্যেই ভেতরে চিৎকার করে বলেন যে, তরুণসহ বিধায়ক ও তার ভাই মিলে খেয়ালখুশির মতন টেন্ডার বিলি করছেন এ নিয়ে কিন্তু তিনি চুপ করে বসে থাকবেন না । তিনি পৌর সভার বাইরেও সরব হবেন।

টেন্ডার নিয়ে গোপাল রাউতের চেঁচামেচি শুনে অবশেষে তার অনুগামী তরুণকে শান্ত করেন রেবা দেবী । আর তারপরে বৈঠক করে ৭০টি পৌরসভার কাজের মধ্যে ১১টি কাজ গোপাল অনুগামীদের দিয়ে সমঝোতা করা হয়।

আরও জানা গেছে, গোপাল রাউতের অনুগামীদের আগে চারটি মাত্র কাজ দেওয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু গন্ডগোলের পর আরো ৭টি কাজ বাড়িয়ে ১১টি কাজ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ভাটপাড়ার চেয়ারপার্সন রেবা দেবী বয়স জনিত কারণে তার সমস্ত কাজকর্ম তার দুই পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে এই পৌরসভাতে বসে করেন। আর এ নিয়েই কাউন্সিলরদের মধ্যে ক্ষোভ। তারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, সঞ্জয় পৌরসভার কেউ নন কিন্তু কোন কাজ তাকে ছাড়া হয় না।

আরো অভিযোগ সঞ্জয় শ্যাম পৌরসভার কেউ নন তা সত্ত্বেও সঞ্জয়ের জন্য পৌরসভাকে নির্দিষ্ট বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও পৌর চেয়ারপারসন রেবা দেবী পুত্র সোমনাথ শ্যাম এর জন্য আলাদা বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই কিছু কাউন্সিলর সরাসরি দাবি তোলেন যে বহিরাগতদের যদি পৌরসভায় বসার নির্দিষ্ট জায়গা হতে পারে তাহলে এলাকার সাংসদ অর্জুন সিং এর জন্য একটি চেম্বার পৌরসভাতে করা যেতেই পারে।

আরও জানা গেছে যে, প্রায় আড়াই কোটি টাকার কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন রেবা দেবী। আর এই কাজ কাদের দেওয়া হবে তা ঠিক করে দেওয়া হয় তার দুই পুত্র দ্বারা।

ভাটপাড়া পৌরসভার এক কাউন্সিলর জানান, পৌরসভায় সিন্ডিকেট চলছে। আর কনট্রাক্টরদের আগের থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয় কারা কোন কাজটি পাবেন। নরমালি কোন বহিরাগত কন্ট্রাক্টর এই টেন্ডার জমা দিতে পারেন না। কারণ তারা কাজের কিছুই বিস্তারিত জানতে পারেন না। পৌরসভার টেন্ডারের এক একটা কাজের এক একটা সিরিয়াল নাম্বার থাকে। আর এই সিরিয়াল নাম্বার তাদেরকে জানানো হয় যারা এই টেন্ডার পাবেন।

কিছু কাউন্সিলরদের অভিযোগ যে, জগদ্দল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম তাঁর প্রভাব খাটিয়ে তাঁর মাকে চেয়ারপার্সন পদে বসিয়ে ব-কলমে তিনি ও তাঁর ভাই পৌরসভার সমস্ত কাজ ও ফান্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন। পৌরসভার টেন্ডারের ভাগাভাগি নিয়ে যেভাবে কাউন্সিলরদের হাতাহাতি ও গন্ডগোলে প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসেছে,তাতে পরিষ্কার যে ভাটপাড়া পৌরসভা ফের দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে।