AABTAK KHABAR,10 MARCH: মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড়ে বহরমপুর শহর কংগ্রেসের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত হয়ে রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সভা মঞ্চ থেকে তিনি রাজ্যের রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সরব হন।
অধীর রঞ্জন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর নিজেই স্বীকার করেছেন যে হিন্দু সম্প্রদায় সম্পর্কে মন্তব্য করার বুদ্ধি তাকে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অধীরের কথায়, “৭০ শতাংশ মুসলিম ও ৩০ শতাংশ হিন্দুর কথা বলে বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে ডাকলে তারা এক হয়ে অন্যদের তাড়িয়ে দেবে। এটা স্পষ্টভাবে বিভাজনের রাজনীতি।”

তিনি আরও দাবি করেন, মুসলিম সমাজের উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে তাদের জন্য বিশেষ কিছু করা হচ্ছে না। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজ্যসভার মনোনয়ন এবং বঙ্গশ্রী পুরস্কার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অধীর বলেন, “বঙ্গশ্রী পুরস্কার এমন একজনকে দেওয়া হয়েছে যিনি বাংলাকে ভাগ করার কথা বলেন এবং গ্রেটার কুচবিহারের দাবি তোলেন। কিন্তু সেখানে কোনও মুসলিম ব্যক্তির নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

রাজ্যসভার মনোনয়ন প্রসঙ্গেও তিনি কটাক্ষ করে বলেন, চারজনকে রাজ্যসভার সদস্য করা হয়েছে, অথচ তাঁদের মধ্যে প্রকৃত বাঙালি খুব কম। তার মধ্যে এক জনকে নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে তিনি সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে কথা বলেন। অধীরের বক্তব্য, “ভোটের সময় বলা হয় বাঙালি ও মুসলিমদের পক্ষে কাজ করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিফলন দেখা যায় না।”
এদিন তিনি ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, বাংলায় বহু ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত না হয়েই পড়ে আছে এবং সেগুলির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ বা আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। “কেন বাংলায় ওয়াকফ আইনের সঠিক প্রয়োগ হলো না? কত সম্পত্তি ওয়াকফ আইনে নথিভুক্ত হয়েছে, তা কেউ জানে না,”— বলেন অধীর।

এছাড়াও তিনি SIR কাণ্ড (Special Intensive Revision / ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যু) নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। অধীরের অভিযোগ, এই ইস্যুকে সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায়, “একদিকে ধরনা, অন্যদিকে প্রতিশ্রুতির ঝরনা— এই দুই নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের বৈতরণী পার হতে চাইছেন।”

প্রতিবাদ সভা থেকে কংগ্রেসের মূল দাবি স্পষ্ট করে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “যতক্ষণ না সমস্ত বৈধ ভোটারের নাম সঠিকভাবে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ কোনও নির্বাচন হওয়া উচিত নয়। স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।”
বহরমপুরের টেক্সটাইল কলেজ মোড়ে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন জোরদার করার বার্তাও দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।