অবতকের বিশেষ প্রতিবেদনঃ

মানুষের আবাসন প্রকল্পের টাকা মেরে দেওয়া যায়, পাখিদের আবাসনের টাকা মারা তো দূরের কথা, মঞ্জুরেরই কোনো প্রশ্ন নেই!

বাসা, ভালোবাসা ও সুকুমার রায়
তমাল সাহা

তুমিই প্রথম আমাকে বাসার গল্প শুনিয়েছিলে। আমার চোখে ফুটিয়ে তুলেছিলে অনাগত দূরের ভাষা। কত সহজ করে বাসা বানানোর খুঁটিনাটি বলেছিলে, আমি তোমার কাছে ঋণী হয়ে আছি।

মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্পের টাকা মেরে দেয় কারা? মানুষেরা ছাদহীন ঘুরে বেড়ায়।
পাখিদের জন্য আবাসন প্রকল্পের টাকা মঞ্জুর করতে লাগে না। পৃথিবীর কোনো পাখি গৃহহীন নয়। শাসকের মুদ্রাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা বানিয়ে চলে নিজেদের নিলয়!

সব পাখিরাই জন্মে রাজমিস্ত্রি। তারা পটুয়া, তাঁতি, ছুতোর সব হতে পারে। আসলে সব পাখিরাই শিল্পী। তাদের শ্রম ও মেধার তুমি তারিফ করেছিলে। পাখিদের বাসা লম্বা, গোল, চৌকো, ঢেউ খেলানো অনেক রকমের হয়ে থাকে। কোনো পাখির বাসা শূন্যে ঝুলতে থাকে কেন, দোলে কেন তার কারণও তুমি আমাকে বলেছিলে। তুমি হয়তো বলতে চেয়েছিলে, পাখিরা জ্যামিতি জানে, তাদের কার্যকারণ বোধ আছে এবং থিম ভাবনার এখন যে প্যান্ডেল তা অনেক আগেই পাখিদের মাথায় এসে গিয়েছিল।

মানুষের ঘরের ঘুলঘুলিতে চড়ুই পাখির বাসা,তালগাছের মাথায় উল্টোকুজোর মতো বাবুই পাখির আস্তানা, লাইট পোস্টের মাথায় কাকেদের ঘর, টুনটুনির পাতা সেলাই করা আশ্রয়, বুলবুলির ঝুড়ির মতো কুঠি, কাঠঠোকরার গাছের কাণ্ড ঠুকে ঠুকে ঘর, এসব শিল্পশৈলী ছাড়া আর কী!

অস্ট্রেলিয়ার কুঞ্জপাখির লতা দিয়ে কুঞ্জ বানানোর কথা তুমি না বললে আমি কি আর জানতে পারতুম আর তাদের ঘর সাজানোর শখ? ঘরের বাইরে যত রঙিন কাঁচ পাথর জড়ো করে সাজিয়ে রাখে।
কুঞ্জ শব্দটি ব্যবহার করায় রাধা কৃষ্ণের প্রেমের কথা মনে পড়ে গেল!
আর থুথুপাখি তালচোঁচ ঘাস পালক থুতুতে জোড়া দিয়ে ঘর বানায়! থুথু-লালায় ভালোবাসার বিষ জড়িয়ে থাকে, তুমি কি জানো?
ফ্লেমিংগো পাখি যেন পটুয়া, কাদা দিয়ে বানায় শান্তিতে মাথাগোঁজার ঠাঁই।

তোমার লেখা থেকে বুঝেছিলাম বাসা মানেই আকাঙ্ক্ষা। আকাঙ্ক্ষা মানেই ডিম।ডিম মানেই প্রজন্ম।

পাখির নীড়ের মত চোখ!
বাসার আগে ভালো বসালেই ভালোবাসা শব্দটি আসে।

ভালোবাসার জন্যই ভালো বাসার প্রয়োজন।
নীরবে নিভৃতে প্রশান্ত চুম্বন আলিঙ্গন
সৃজনের অপূর্ব আয়োজন!