অবতক খবর , রাজীব মুখার্জী, হাওড়া :     গত সপ্তাহে হাওড়া রামরাজাতলা পশুপতি রাম ঠাকুরের বিসর্জন হবে না এই নির্দেশ দিয়েছিল হাওড়ার জেলা প্রশাসন। তারপর থেকেই রাম মন্দির কমিটির সদস্য সহ হাওড়া জেলার রাম ভক্তরা ম্রিয়মান হয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের মনে প্রশ্ন ওঠে তাহলে ৪০০ বছরের এই প্রাচীন প্রথা থমকে যাবে এই ২০২০ সালে!

রামরাজাতলার প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী রাম ঠাকুরের বিসর্জন হয় প্রত্যেক বছরের শ্রাবণ মাসের শেষ রবিবারে। প্রশাসনের বিসর্জন বন্ধের নির্দেশ পাওয়ার পর হঠাৎ দেখা যায় রাম ঠাকুরের মন্দির এলাকা চত্বরজুড়ে পোস্টারে ভরে যায়। সেই পোস্টারে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কেনো বিসর্জন হবে না জবাবদিহি চাওয়া হয়। তারপরে একটি জনস্বার্থ মামলা হয় আদালতে সেই আদালতের রায় দুদিন আগে বের হয়। আদালত থেকে রায় দেওয়া হয় বিসর্জন করতে দিতে হবে কিছু শর্ত মেনে। এই অনুমতি পাওয়ার পর মন্দির কমিটি ও অগণিত ভক্তের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় তারা বাজি ফাটিয়ে লাড্ডু বিতরণ করে আনন্দ উৎসব পালন করেন। তারপর আজ সকাল থেকেই আবির খেলার মাধ্যমে রাম ও সীতা দেবীকে বরণ করেন অগণিত ভক্তগণ তারপর চলে মহিলাদের মধ্যে সিঁদুর খেলা।

অবশ্য বিগত বছরের ন্যায় এবার রাম ঠাকুরের বিসর্জনে ফুটে উঠলো অন্য চিত্র। হাওড়া সিটি পুলিশের তরফ থেকে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ, রাফ, কমব্যাট ফোর্স ও সিভিক ভলেন্টিয়ার মোতায়েন করা হয় রামরাজাতলায়। রাম ঠাকুরের বিসর্জনকে কেন্দ্র করে এত পুলিশের তৎপরতা নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে মানুষের মধ্যে। ভক্তরা আজ সকালে মিষ্টি মুখ করালেও রথের দড়ি টানতে সামান্য কিছু ভক্তকে অনুমতি দেওয়া হয়। পুলিশের তরফ থেকে ব্যারিকেড করে রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর সাধারন মানুষকে রাম ঠাকুরের সামনে যেতে বাধা দেওয়ার প্রশাসনের এই প্রচেষ্টা কে নিন্দা করে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয় এটাও একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিসর্জনের পরিকল্পনা। যেহেতু রাম এর নাম জড়িয়ে থাকাতে এই ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।

রাম ঠাকুরের বিসর্জনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আসেন আজকে রাজ্যের ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রী ও হাওড়া সদরের শাসক দলের সভাপতি লক্ষ্মীরতন শুক্লা।