বই মেলা/তমাল সাহা

সংলগ্ন জনপদ কল্যাণীতে শুরু হয়ে গিয়েছে বইমেলা, বই উৎসব

বইমেলাকে সামনে রেখে এই শুভ উৎসবের আয়োজনকে অভিনন্দন জানিয়ে এই লেখাঃ

বই মেলা
তমাল সাহা

এক)
অনুসন্ধান

দুনিয়ায়
এমন কোনো বিপ্লবী পাওয়া যায়নি
যে বই পড়েনি!

দুই)
আতিশয্য

ব বর্ণের দিকে
তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
ব বর্ণের দেখো আতিশয্য!
ব-য়ে বই বারুদ বোমা বন্দুক
শেষ পর্যন্ত বিস্ফোরণ
সৃজনের অপূর্ব আয়োজন!

তিন)
বই তখন প্রেমিকা

বইকে
প্রেমিকার চেয়েও স্পর্শ সহজ।
তাকে হাতে তুলে নাও
ঘ্রাণ নাও
তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকো
তার পৃষ্ঠা জুড়ে উষ্ণতা।

তার দেহ সৌন্দর্যে ফুটে আছে অক্ষর
সে তোমার সঙ্গে কথা বলতে চায়
বই প্রেমিকা তোমার
সে শুধু তোমার স্পর্শ চায়
তাকে শেখানো যায়না কিছুই।
সে তো ঋদ্ধ প্রেমিকা তোমার
সে শুধু শেখায়!

চার)
বইঘর

আগুন থাকে বইঘরে।
অদৃশ্য উত্তাপে
তোমাকে জড়িয়ে রাখে।

সাদা পাতায় কালো অক্ষর
এমন যৌথ মিলন– অদ্বিতীয়।
পৃথিবী দেখেনি কখনো
দেখবেও না কখনো।

পাঁচ)
বইয়ের দোষ

জীবন শিল্পী তুমি,কথাশিল্প লিখে বানাও বই
কাটতি অনেক।
ওদের কষ্ট যন্ত্রণা নিয়ে লিখে বাড়াও উদ্বেগ!
তোমাকে পুরস্কার– মুদ্রা মোহর ভূষণ
সে কী বিশাল আয়োজন!

যাদের নিয়ে লেখো
তারা থাকে দাঁড়িয়ে
পেটে নেই দানাপানি- অসহায় জীবন যাপন।

তুমি বই লিখে পেলে সম্মান স্বীকৃতি!
তারা পণ্য– ফাউ সওদা হলো তোমার কলমে
কি দারুণ লেখো তুমি তাদের কথা
জীবনে না-পাওয়ার আকুতি-ব্যথা!

বই সব জানে
জেনেশুনেও এই নিরুপায় দোষ।
শুধু তাকিয়ে দেখে, নিষ্ফল তার রোষ!

ছয়)
উপকারিতা

একটু চওড়া মোটা বই–
তার উপকারিতা ভীষণ।

সব্যসাচী
বইয়ের ভেতরে খোপ কেটে পিস্তল লুকিয়ে রেখেছিল–
এটা সিনেমায় দেখেছি।
আসল উপন্যাসটির নাম পথের দাবী।

শরৎচন্দ্র জানিয়েছিলেন
পথের দাবীতে পিস্তল লাগে আর সেই পিস্তল লুকিয়ে রাখতে লাগে বই।

রামায়ণ-মহাভারত বইদুটো
এ বিষয়ে অত্যন্ত উপযোগী।
অগ্নিযুগের বিপ্লবী
আমাদের ভূমিপুত্র রিভলবার মাস্টার বলেছিলেন,
মহাযুদ্ধে তো মহাকাব্যই লাগে!

আট)
হাতিয়ার

ব্রেশট বলে,
আরে ভুখা মানুষ শোনো!
বই সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার জেনো।
ওটা হাতে তুলে নিতে হয়,নাও।
বই হলো সঠিক দিক নিশানাদিহি
এবার লড়াইয়ে যাও!