বইওয়ালা/তমাল সাহা

বইমেলা ২০২৪ এর জন্য একটি গদ্য

বইওয়ালা
তমাল সাহা

আমার নাম মোঃ আজিজ। বয়স ৭২। রাবা শহর, মরক্কোতে থাকি। পেশায় আমি একজন বইওয়ালা। বই বিক্রি করি এবং বই পড়ি।

বই পাড়ায় ঘুরতে ঘুরতে
সেদিন আজিজ চাচার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল এবং কথা হল।
বই প্রসঙ্গে আজিজ চাচা বলেন, জানো তো বইওয়ালাদের একটা বিশেষ সুবিধে আছে।
আমরা বিক্রির জন্য বই কিনি, পড়ার জন্য বই কিনি না। অথচ বিক্রির আগেই আমাদের সেই বই পড়া শেষ হয়ে যায়।
চাচা আরও বলেন, আমার ভাবতে অবাক লাগে জ্ঞানী হবার জন্য মানুষ কত লক্ষ লক্ষ টাকার বই কেনে! ওনারা কি বোকা? আর আমরা বিনা খরচে বই পড়ে ফেলি আর বিক্রি করে টাকা উপার্জন করে পেটের দানাপানি জোগাড় করে বাড়ি ফিরি।
তোমার কি মনে হয় না, জ্ঞানী মানুষের এটুকু বুদ্ধিও নেই? তারা যদি বই বিক্রেতা হত তবে কত অর্থ কত জ্ঞান দুটোই তাদের একসঙ্গে জুটে যেত!
আমরা বই পড়লেও আমাদের কেউ জ্ঞানী বলবে না। বলবে, ওনার দোকানে বইয়ের বিক্রিবাট্টা বেশ ভালো। উনি একজন ভালো বই বিক্রেতা,ওনাকে বেস্ট বুক সেলার বলা যায়! এটা কী ইংরেজিতে কোনো অপমান?

আমি আজিজ চাচার কথায় চমকে উঠি।

আজিজ চাচা প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘন্টা বই পড়েন।

এবার যখন বইপাড়ায় গেলাম জানতে পারলাম আজিজ চাচা আর বেঁচে নেই।
ফরাসি আরবি ইংরেজি ভাষায় পাঁচ হাজারেরও বেশি বই আজিজ চাচা পড়ে ফেলেছিলেন এবং রাবাতে বইপাড়ায় ৪৩ বছর ধরে বই বিক্রি করেছিলেন। ওই সময়ে তিনি সবচেয়ে বয়স্ক বই বিক্রেতা ছিলেন।

আজিজ চাচার দোকান ছোট্ট ছিল কিন্তু দোকানের বাইরে গাদা করে বইয়ের স্তূপ দেওয়া থাকতো। দোকানে জায়গা নেই তো! এছাড়া কোনো উপায়ও ছিল না।
আজিজ চাচা দোকান বন্ধ করে তালা দিয়ে চলে যেতেন। বাইরের বই বাইরেই পড়ে থাকতো।

কী করছো আজিজ চাচা, এসব বই ভেতরে ঢোকালে না, চুরি হয়ে যাবে যে!

ধুর ব্যাটা! যারা বই পড়তে জানে না তারা আবার বই চুরি করে নাকি? আর যারা পড়তে জানে তারা কোনদিনও চোর হয় না।

কৃতজ্ঞতা খাদিজা ডৌহরি