অবতক খবর :: ২৪ জুলাই:: ইটাহার ::     এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ পরিযায়ী পক্ষীনিবাস উত্তর দিনাজপুর জেলার কুলিক ফরেস্ট। এই পক্ষীনিবাসের পাশাপাশি ইটাহারের মারনাই গ্রামেও শুরু হয়েছে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা। আর এই পরিযায়ী পাখিদের দেখাশোনার কাজ করেই দিন কাটান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা গ্রামের বাসিন্দা অক্ষয় পাল। জানা গিয়েছে প্রতিবছর বর্ষার আগেই ইটাহার থানার মারনাই অঞ্চলের মারনাই গ্রামে পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। মারনাই গ্রামের কিছু অংশ জুড়ে গাছে গাছে দেখা যায় রকমারী পরিযায়ী পাখিদের।

প্রথম দিকে গ্রামের বাসিন্দারা অসুবিধা বোধ করলেও এখন তাদের মনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে তারা। গ্রামের আর পাঁচ জনের মতো তারা হয়ে উঠেছে গ্রামের সদস্য। গ্রামের কেউ তাদের বিরক্তও করে না। পাখির আওয়াজে গমগম করে গোটা গ্রাম। এই বিষয়ে গ্রামের বাসিন্দা পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক অক্ষয় পাল বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরেই গ্রামের কিছু অংশে গাছের ডালে ডালে ভরে যায় কয়েক হাজার রকমারি পরিযায়ী পাখিতে। যা উওর দিনাজপুরে রায়গঞ্জ কুলিক ফরেষ্টে দেখা যায়। প্রথম দিকে পাখি শিকারীরা এই পাখি গুলো শিকার করতো। কিন্তু এখন তা আর পারে না। গ্রামের বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তা বন্ধ করতে পেরেছি।”

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, অক্ষয় পাল গ্রামে আসা পাখিদের দেখভাল করেন দীর্ঘ দিন ধরে। ওনার উদ্যেগে এলাকায় পোষ্টার লাগানো হয়েছে যেন কোনো পাখি শিকার না করা হয়।কোনোটাতে লেখা “পাখি হত্যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ”, আবার কোনোটায় “পাখি দেখুন নিজেকে আনন্দ মুখর করে তুলুন”। অক্ষয় বাবু সারাদিন গ্রামে ঘুরে দেখাশোনা করেন কেউ যেন পাখিদের বিরক্ত না করে। যদিও অক্ষয় পাল আরো বলেন, “গ্রামের সকলের সহযোগিতায় দেখাশুনা করি। কেননা রায়গঞ্জ কুলিক ফরেষ্ট ছাড়া জেলা সহ আসে পাশের জেলায় এই ধরনের পরিযায়ী পাখির আনাগোনা দেখা যায় না। ফলে আশেপাশের লোকজন পাখি দেখতে আসে মাঝে মাঝে। আগষ্ট মাসের দিকে পরিযায়ী পাখিগুলো চলে গেলে মন খারাপ লাগলেও আগামী বছরের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় আবার ওরা কখন আসবে আমাদের গ্রামে।”