বিপ্লবী বড় স্লোগান ছিল না তোমার চলচিত্র নির্মাণে। তবে নিশ্চিত সামাজিক দায়বোধ ও দায়বদ্ধতা ছিল কারিগরিতে,অবশ্যই চেতনায় অভিঘাত সৃষ্টি করতো।

১) নির্দেশক

পথভোলা ছিল বুঝি
তবুও ভোলেনি পথ।
নিজস্ব মতে আপোষহীন কোথায় পলাতক?

কুহেলি রাত, ছেড়ে যতসব চাওয়া পাওয়া
কে যেন নিমন্ত্রণ পাঠালো
এসো এখানে, দেখো বিস্তীর্ণ আলো।
সংসার সীমান্তে দাঁড়িয়ে
বুকে গীতাঞ্জলি গায়ে জড়িয়ে লাল পতাকা
রাষ্ট্রীয় গান স্যালুটকে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ বাজিয়ে মারলো তুড়ি
গণদেবতার নির্দেশক দিল পাড়ি ভালোবাসার বাড়ি!

বাতাস দ্রুত ছুটে এসে বলে, রোসো,একটু দাঁড়া!
গায়ে চাপানো সাদা কাপড়টা মানে কাফনটা
সরিয়ে একটু দেখা
শিখে নি কি করে সোজা রাখতে হয় শিরদাঁড়া!

২) রাহগির

এ কোন পথভোলা,কে যায়!
এসব কারা, কাদের পাহারায়?

এমন তো কোনদিনও দেখেনি!
দেখিনি, এ কেমন কমিউনিস্ট!
বুকে গীতাঞ্জলি তার উপর গায়ে লাল পতাকা
এমন তো দেখছি এই প্রথম
রবীন্দ্রনাথকে সঙ্গে নিয়ে যায় এ কেমন মরণ-মেল বন্ধন!

আপনি চেনেন না?
আরে, ওই যে চিত্র পরিচালক
চাওয়া পাওয়া, স্মৃতিটুকু থাক…

চিত্র তো চিত্রই
চিত্র পরিচালক সে আবার কি ভাই?
ও বুঝেছি, সংসার সীমান্তে গণদেবতা পলাতক…
এইসব জীবনচিত্র প্রদর্শক
আগে পরিষ্কার করে বলবে তো তাই!

নিমন্ত্রণ পেয়েছিল বুঝি, চলনে বলনে ছিল খুব ধীর স্থির
হায়! চলে গেল রাহগির!

© তমাল সাহা