অবতক খবর , রাজীব মুখার্জী, হাওড়া : নতুন করে নদী বাঁধে ফাটল দেখা দিলো শ্যামপুর এলাকায়। বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় আতঙ্কিত শ্যামপুরের গাদিয়াড়া ওমরপুর এলাকার বাসিন্দারা। শনিবার থেকেই ভরা কোটালের ঝড়ের পরে ওই এলাকায় ফাটল দেখা গিয়েছিল। রবিবার সকালে সেই ফাটল আরো অনেকটাই চওড়া হয়েছে। হেলে পড়েছে পড়েছে সংলগ্ন বড় বড় গাছ। ফলত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ সেচ দপ্তর ঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পথের দাবী এই এলাকায় বাঁধ ভাঙলে অন্তত দশটি গ্রামে জল ঢুকবে। তাই ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দ পাল জানান ২ বছর আগে সেচ দপ্তরে পক্ষ থেকে এই বাঁধের মেরামতির কাজ করা হলেও, সঠিকভাবে কাজ না হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার দাবি শনিবার অল্প ফাটল দেখা গেলেও রবিবার ফাটল পায় ১ ফুট চওড়া হয়েছে। তিনি আরো জানান এই বাঁধ কোন ভাবে ভেঙে গেলে দশ-বারোটি বেশি গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই কারণে এই এলাকার আশেপাশের দশ-বারোটি গ্রামের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান শনিবার পঞ্চায়েত প্রধান এবং প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। মাটির বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে মেরামতির কাজ হয়। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি।
গ্রামবাসীদের দাবি অবিলম্বে শেষ দপ্তরের পক্ষ থেকে পাকাপাকিভাবে এই সমস্যার সুরাহা করা হোক। শ্যামপুরের বিধায়ক কালিপদ মন্ডল জানান, তিনটি নদীর সংযোগস্থল গাদিয়াড়া। যে এলাকায় ফাটল দেখা দিয়েছে সেই জায়গায় এই তিনটি নদীর জলের চাপে প্রাকৃতিক ভাবে একটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। যার গভীরতা প্রায় ৫০ ফুট। সেই কারণেই বারবার এখানে মাটি বসে যায় বা ফাটল দেখা যায়। সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিবছরই মেরামতির কাজ করা হলেও কোন পাকাপাকি সুরাহা করা যায়নি। প্রাকৃতিক কারণেই শেষ দপ্তরকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

তিনি আরো জানান তিনি ইতিমধ্যেই শেষ দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে কথা বলেছেন এবং সোমবার থেকেই সেখানে কাজ শুরু করবে সেচ দপ্তর। পাশাপাশি তিনি জানান গোটা শ্যামপুর ব্লকটি তিনদিক নদী দিয়ে ঘেরা। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ষাঁড়াষাঁড়ি বান আসবে সেই কারণেই তারা সজাগ রয়েছেন। এবং সেই কারণেই সেচ দপ্তরের লোকজন সেখানে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।









