ধ্বংসের মধ্যে গজল/তমাল সাহা

রাজকীয় ভাবে মানুষের মনে বসে আছে সে
বিজয়ী হয়ে— মির্জা গালিব।
আজ তাঁর জন্মদিন।
চলো, তার কাছে যাই…

ধ্বংসের মধ্যে গজল
তমাল সাহা

ভালোবাসা কি দীর্ণ হয়!
প্রজাবিদ্রোহ তোমার সামনে ঘটে যায়
সাম্রাজ্যের পতন ঘটে
তবুও মির্জা গালিব ধ্বংসস্তুপে বসে
একের পর এক গজল লিখে চলে।

তোমার কাছেই আমি লেখা শিখি
তোমার বাণী
অন্যরকম কেন মনে হয় কি জানি!
এও তো জানি
কপালে জুটেছে নিন্দেমন্দ গাল খুবই
তবু কাব্যবাসরে
তুমি আমীরীয় মির্জা, তুমি গালিব-ই।

তুমি বলেছিলে,
আমার হৃদয়ের আগুন থেকেই
আলো দিচ্ছে কবিতা
যে যা বলে বলুক যা তা!
আমি যা লিখছি তাতে
আঙুল তুলবার নেই কারও ক্ষমতা।
তোমরা যা ইচ্ছে করতে পারো
আমার কলম চলতেই থাকবে
কাঁপবে না কিছুতেই থরথর।
আমি তো আমার মতো লিখে যাবোই
আমার মৃত্যুর পর তোমরা তার বিচার করো।

যে জীবন তোমাকে দিলাম সে তো তুমিই দিয়েছো
আমি কি আর দিতে পারি
আসলে তো তোমায় দিইনি কিছুই কোনোদিনই।

ধর্ম আবার কি? কাব্যই ধর্ম।
মানুষই তো দুনিয়ায়, মানুষেরই তো দুনিয়া
মানুষই তার কেন্দ্রে, মানুষই তার মর্ম।

প্রশংসার আশা করি না আমি,
কিসের পুরস্কার!
যা লিখি কঠিন বলো, সেটা তোমাদের অধিকার।

আর সারা জীবন তুমি একটাই ভুল করেছিলে
তা তো তুমি নিজেই স্বীকার করেছ।
নিজের চেহারার ধুলো না মুছে
আজীবন আয়নাই মুছে গেছ।

মানবহৃদয়ে শুয়ে থাকা এতো কথা
কি করে জানো তুমি—
তোমার দরজার সামনেই বানিয়েছি ঘর
এর পরেও বলবে ঠিকানা জানিনা
আমি কি তোমার পর,
তোমার ইচ্ছের কোলে মাথা রাখতে চাই আমি!
তোমার কাছেই রাখা আছে
আমার বিছানা শোবার জমি।

সুরা করেছি করেছি পান, করেছি ঋণ
দেনায় জর্জরিত কেটে যায় দিন
আমার সাকী গেল কোথায়?
সুরায় ভিজিয়ে সুর
শায়েরী লিখে যায় এই হীন দীন!
নেই কোনো সুর, আমি শুধু বীণার আবরণ।
হৃদয় ভেঙে শব্দ খানখান
মাটিতে আছড়ে পড়ে সেই অনুরণন!

কি সুন্দর বলো তুমি সহজে—
প্রেমের কথা রেখো গোপনে
এ না হলে সেটা হবে অমার্জনীয় অপরাধ
গালিব বারবার বলে
প্রেমিক-প্রেমিকার কানেকানে—
গোপন সৌন্দর্য মনে রেখো তোমরা দুজনে।

হায়রে জুয়া!
জুয়া খেলি আমি
জীবনটাই তো জুয়া, রেখেছি বাজি।
প্রেম চেয়ে প্রতীক্ষায় ছিলাম
এলো না সে,এখন চলে যেতে রাজি!

হাত নেই আমার
তোমাকে কিভাবে ছোঁবো?
আমি যে তোমাকে খুবই ভালোবাসি
তাইতো ঘন ঘন কাছে আসি।

তুমি আমাকে ছুঁয়ে থাকবে গো!
গালিব বলে, হাতের রেখায় ভাগ্য লেখা থাকে কি?
হাত নেই যার তারও তো আছে জানি ভাগ্য!

ঋণ স্বীকারঃ গালিবের কাব্য-ভাবনা

রাজকীয় ভাবে মানুষের মনে বসে আছে সে
বিজয়ী হয়ে— মির্জা গালিব।
আজ তাঁর জন্মদিন।
চলো, তার কাছে যাই…

ধ্বংসের মধ্যে গজল
তমাল সাহা

ভালোবাসা কি দীর্ণ হয়!
প্রজাবিদ্রোহ তোমার সামনে ঘটে যায়
সাম্রাজ্যের পতন ঘটে
তবুও মির্জা গালিব ধ্বংসস্তুপে বসে
একের পর এক গজল লিখে চলে।

তোমার কাছেই আমি লেখা শিখি
তোমার বাণী
অন্যরকম কেন মনে হয় কি জানি!
এও তো জানি
কপালে জুটেছে নিন্দেমন্দ গাল খুবই
তবু কাব্যবাসরে
তুমি আমীরীয় মির্জা, তুমি গালিব-ই।

তুমি বলেছিলে,
আমার হৃদয়ের আগুন থেকেই
আলো দিচ্ছে কবিতা
যে যা বলে বলুক যা তা!
আমি যা লিখছি তাতে
আঙুল তুলবার নেই কারও ক্ষমতা।
তোমরা যা ইচ্ছে করতে পারো
আমার কলম চলতেই থাকবে
কাঁপবে না কিছুতেই থরথর।
আমি তো আমার মতো লিখে যাবোই
আমার মৃত্যুর পর তোমরা তার বিচার করো।

যে জীবন তোমাকে দিলাম সে তো তুমিই দিয়েছো
আমি কি আর দিতে পারি
আসলে তো তোমায় দিইনি কিছুই কোনোদিনই।

ধর্ম আবার কি? কাব্যই ধর্ম।
মানুষই তো দুনিয়ায়, মানুষেরই তো দুনিয়া
মানুষই তার কেন্দ্রে, মানুষই তার মর্ম।

প্রশংসার আশা করি না আমি,
কিসের পুরস্কার!
যা লিখি কঠিন বলো, সেটা তোমাদের অধিকার।

আর সারা জীবন তুমি একটাই ভুল করেছিলে
তা তো তুমি নিজেই স্বীকার করেছ।
নিজের চেহারার ধুলো না মুছে
আজীবন আয়নাই মুছে গেছ।

মানবহৃদয়ে শুয়ে থাকা এতো কথা
কি করে জানো তুমি—
তোমার দরজার সামনেই বানিয়েছি ঘর
এর পরেও বলবে ঠিকানা জানিনা
আমি কি তোমার পর,
তোমার ইচ্ছের কোলে মাথা রাখতে চাই আমি!
তোমার কাছেই রাখা আছে
আমার বিছানা শোবার জমি।

সুরা করেছি করেছি পান, করেছি ঋণ
দেনায় জর্জরিত কেটে যায় দিন
আমার সাকী গেল কোথায়?
সুরায় ভিজিয়ে সুর
শায়েরী লিখে যায় এই হীন দীন!
নেই কোনো সুর, আমি শুধু বীণার আবরণ।
হৃদয় ভেঙে শব্দ খানখান
মাটিতে আছড়ে পড়ে সেই অনুরণন!

কি সুন্দর বলো তুমি সহজে—
প্রেমের কথা রেখো গোপনে
এ না হলে সেটা হবে অমার্জনীয় অপরাধ
গালিব বারবার বলে
প্রেমিক-প্রেমিকার কানেকানে—
গোপন সৌন্দর্য মনে রেখো তোমরা দুজনে।

হায়রে জুয়া!
জুয়া খেলি আমি
জীবনটাই তো জুয়া, রেখেছি বাজি।
প্রেম চেয়ে প্রতীক্ষায় ছিলাম
এলো না সে,এখন চলে যেতে রাজি!

হাত নেই আমার
তোমাকে কিভাবে ছোঁবো?
আমি যে তোমাকে খুবই ভালোবাসি
তাইতো ঘন ঘন কাছে আসি।

তুমি আমাকে ছুঁয়ে থাকবে গো!
গালিব বলে,
হাতের রেখায় ভাগ্য লেখাৎথাকে কি?
হাত নেই যার তারও তো জানি আছে ভাগ্য!

ঋণ স্বীকারঃ গালিবের কাব্য-ভাবনা