ডালু বাবুর মন্তব্যে লোকসভা ভোটে কংগ্রেস তৃণমূল জোটের সম্ভাবনা নিয়ে অখুশি নিচুতলার কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা

অবতক খবর,৩০ ডিসেম্বর,মালদা:সানু ইসলাম: নতুন বছরে যে কোনো সময় ঘোষণা হয়ে যাবে লোকসভা ভোটের নির্ঘন্ট। বিজেপিকে রুখতে এক ছাতার তলায় এসেছে বিরোধীরা।তৈরি হয়েছে ইন্ডিয়া জোট। সেই জোটে রয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং সিপিএম। কিন্তু এই রাজ্যে তিন দলের সমীকরণ কি হবে তা নিয়ে প্রশ্ন।এই নিয়ে জল্পনা চলছে মালদার জেলা রাজনীতি মহলেও। তারই মাঝে বুধবার জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তথা দক্ষিণ মালদার সাংসদ আবু হাসেন খান চৌধুরীর মন্তব্য জল্পনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

ডালু বাবু দাবি করেন তৃণমূল দক্ষিণ মালদার আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে রাজি। তারা আরো কিছু আসন তৃণমূলের কাছে দাবি করছেন। ৩১ তারিখ ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন তিনি।তার এই মন্তব্যে আসন্ন লোকসভা ভোটে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মধ্যে জোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।আর এই সম্ভাবনা তৈরি হতেই জেলা জুড়ে নিচু তলার কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।চলতি বছরের পঞ্চায়েত ভোটে জেলার প্রত্যেক প্রান্তে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করেছে কংগ্রেস কর্মীরা।কোথাও একক ভাবে আবার কোথাও সিপিএমের সঙ্গে জোট বেঁধে। দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলকে এক হাত নিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। ভোট থেকে শুরু করে বোর্ড গঠন পর্যন্ত তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস।তাই তৃণমূলের সঙ্গে জোট কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এমনটাই মত প্রকাশ করছে কংগ্রেসের নিচু তলার কর্মী থেকে শুরু করে নেতারা।মালদা জেলার যে কয়েকটি এলাকায় পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেসের ফলাফল ভালো হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা।এই এলাকায় সিপিএমের সঙ্গে জোট ফলপ্রসূ হওয়াই পঞ্চায়েত সমিতি থেকে শুরু করে একাধিক পঞ্চায়েত দখল করেছে বাম-কংগ্রেস জোট। এমনকি বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূল কে রুখতে এই এলাকায় বিজেপিও বাম-কংগ্রেস জোটকে সমর্থন জানিয়েছে।

রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেনের গড়ে ভিত আলগা হয়েছে তৃণমূলের। জেলা পরিষদে বাম কংগ্রেস জোটের কাছে হেরে গেছে মন্ত্রীর ভাই জম্মু রহমান। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন নিয়েও ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বাম কংগ্রেস শিবিরে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় কংগ্রেস কর্মীদের মত তৃণমূলকে কোন ভাবেই সমর্থন জানানো যাবে না। কংগ্রেস নেতা আব্দুস শোভানও বলেন এই সিদ্ধান্ত নেতৃত্ব নিলে মানা যাবে না। দলের ক্ষতি হবে। সাথে তিনি বলেন ডালু বাবুর বয়স হয়েছে তাই এমনি বলছেন। অন্যদিকে সিপিএমের স্পষ্ট বক্তব্য তৃণমূলের সঙ্গে যারা যাবে তাদের কোনো ভাবেই সমর্থন জানানো যাবে না। সিপিএম বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে সমান লড়াই করবে। সমগ্র ঘটনায় খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপি। মমতাকে চোরের রাণী বলে কটাক্ষ। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।