চাবিওয়ালা রবি পালের হাত ধরে এক অন্য রকম রাখী উৎসবের স্বাক্ষী থাকলেন দৃষ্টিহীন মানুষেরা

অবতক খবর,৩০ আগস্টঃ চাবিওয়ালা রবি পালের হাত ধরে এক অন্য রকম রাখী উৎসবের স্বাক্ষী থাকলেন দৃষ্টিহীন মানুষেরা।চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে পথ চলতি নবীন প্রবীন পুলিশ সাধারণ মানুষকে আবদ্ধ করলেন রাখীর বন্ধনে।

ঘড়ির মোড়ে বসে চাবি তৈরী করা রবি পালের পেশা।আর সময় পেয়ে মঞ্চে গান করে কিছু বাড়তি উপার্জন করেন।সেই টাকায় দৃষ্টিহীন দের জন্য কাজ করেন।কখনো ক্রিকেট খেলা করেন,কখনো বিভিন্ন উৎসবে সামিল করে তাদের না দেখতে পাওয়া ভুলিয়ে দেন।আবার তাদের রাখী তৈরী করতে উৎসাহ দেন।ভারত চাঁদে পৌঁছে গেছে কিন্তু এই পৃথিবীর আলোই দেখতে পারেননি এমন বহু মানুষ আছেন।তাদের জন্য কর্নিয়া সংগ্রহ করে আলোয় ফেরা সংগঠন।সেই সংগঠনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রবি আজ দৃষ্টিহীনদের নিয়ে রাখী বন্ধন উৎসব পালন করলেন।

রাখির সঙ্গে বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস জড়িয়ে অনেক আঙ্গিকে। সেখানে রয়েছে ইতিহাসের ছোঁয়া, আছে আবেগ। বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তে শিলমোহরে যখন ভাগ হচ্ছে দুই বাংলা,সেই অশান্ত মূহুর্তকে সম্প্রীতির বন্ধনে বেঁধেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।সেই শুভদিনে দৃষ্টিহীন মানুষরা পথ চলতি মানুষদের হাতে রাখি পরিয়ে ভাতৃত্বের এক নতুন বন্ধন গড়লেন।

বুধবার সকালে চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে রাখি বন্ধন উৎসবে সামিল হন বেশ কিছু দৃষ্টিহীন মানুষ।যাদের বেশির ভাগই ট্রেনে বাসে গান গেয়ে উপার্জন করেন।

দৃষ্টিহীনরা বলেন, রাখীর এই অভিজ্ঞতা তাদের জীবনে প্রথমবারের। এর আগে আমরা কখনোই এইভাবে রাখী পূর্ণিমা পালন করিনি।দৃষ্টিহীনরাই নিজেরা এই রাখী তৈরি করেছেন। এই বিশেষ দিনে তাদের হাতে রাখি পরিয়ে দিয়ে যে ভাতৃত্বের বন্ধন তারা তৈরি করছেন তা তাদের কাছে স্মরণীয় হয় থাকবে।

রবি পাল বলেন,যারা দৃষ্টিহীন তারা রাখী ক রকম হয়।তারা নিজেরাই রাখী তৈরী করেছে পথ চলতিদের হাতে রাখি পরিয়ে দিয়েছেন।এ এক অন্য ধরনের অনুভূতি।সকালে রাখী বন্ধনের পর দুপুরে মাংস ভাতের আয়োজন করা হয়।