চল কুন্তল/তমাল সাহা

আজ ওই যে পুলু যার আসল নাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় যিনি একদিন কাঁচরাপাড়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন ও কল্যাণী বইমেলার উদ্বোধন করে গিয়েছিলেন তাঁর জন্মদিন

চল কুন্তল
তমাল সাহা

চল কুন্তল!
একটু গঙ্গার পারে গিয়ে বসি।
অপুর সংসার এলোমেলো হয়ে গিয়েছে জানিস তো!
চারুলতা আর ভালো নেই।
শুনেছি ঘরে বাইরে ওকে কাজ করতে হয়।

চল কুন্তল!
একটু প্রাণতপস্যার গল্প বলি।
নীলকন্ঠ যে কেন অমন হয়ে গেল
কে জানে!
মনস্তত্ব কোথায়, কি কাজ করে?
কোন অশনি সংকেত-এ অন্তর্ধান-এ
চলে যায় মানুষ
কোন মহাপৃথিবীর অভিযানে!

চল কুন্তল!
কি বলবো আর তোকে
আতঙ্ক তো দেশ জুড়ে
গণশত্রু-র সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে।
উদয়ন পন্ডিত, দেবু পন্ডিতের মতো মানুষ দরকার–
মানিকদা শুধু নয়, তরুণদাও বলে গিয়েছিল
হীরক রাজার দেশে ও গণদেবতাতে।

চল কুন্তল!
অনেক দিন পর তোর সঙ্গে দেখা–
অরণ্যের দিনরাত্রির কথা তোর মনে পড়ে
জোড়াদীঘির চৌধুরী পরিবারের কথা!
সাত পাকে বাঁধায় পাঞ্জাবি দোফালার দৃশ্য
হুইল চেয়ারে প্রৌঢ়ত্বের সে কী তেজ
আর বরুণ বাবুর বন্ধুর ক্রোধ!
আচ্ছা, লাল শালুতে মোড়া খেরোর খাতাটা
কোথায় রে!
এসব ধূসর স্মৃতি কেমন
শাখা প্রশাখা ছড়াতে চায়।

চল কুন্তল!
একটু খবর নিয়ে আসি
কোনিরা এখন কি করছে,
কারা সোনার কেল্লায় বসবাস করে?
খবর নিস তো, প্রান্তিকে এসে
ফেলুর কী কী থেরাপি হয়েছিল!
শুনেছি স্টোরি হিয়ারিং থেরাপি, মিউজিক থেরাপিও নাকি হয়েছিল!
খোঁজ নিস চিকিৎসকদের পুরোদস্তুর ঘোল খাইয়ে
ফেলু মগজাস্ত্রটা কোথায় রেখে গিয়েছে!

শোন কুন্তল!
আত্মকথা, তৃতীয় অঙ্ক,অতএব-এ
কি কোনো মারণব্যাধির খোঁজ পেয়েছিল,পুলু!
তোর হোমাপাখির কথা মনে আছে?
যে আকাশ থেকেই ডিম পাড়ে
আর মহাশূন্যেই ডিম ফুটে
তার বাচ্চা বড় হয়ে আকাশে উড়ে যায়!

চল কুন্তল!
এবার উঠি।
বেলা শেষে তিন ভুবনের পারে সাঁঝবাতি জ্বলে উঠলো
জাহাজও বুঝি যাবে ছেড়ে…

চল কুন্তল!
ঐ দ্যাখ, আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে!
এবার একটু সংসার সীমান্তে গিয়ে দাঁড়াই।
তুই কি বলিস মানুষ কি অপরাজিত!!