গুলির দুঃখ,তার জন্মদিন কেন পালন করা হবে না,সে তো নিরপেক্ষ!
গুলির জন্মদিন
তমাল সাহা
গুলি-কে গুলি বলায় তার প্রচন্ড অভিমান।
গুলি বলে,
শব্দটি উচ্চারণেই মনে পড়ে যায় গুলিখোরের কথা।
এতো আমাকে প্রকাশ্যে অপমান!
গুলি আরও বলে,
ভাষা ব্যবহারেও মর্যাদা আছে,
আমাকে ডাকো বুলেট বা কার্তুজ।
দুর্গা তো দশভূজা মাত্র,
আমি দিকশূন্য পথের যাত্রী– বহুভুজ।
গুলি শব্দটি উচ্চারণে
কোথায় তেমন ভয়াবহতা?
বুলেট কার্তুজে যেমন আছে
দ্রুততা-তীব্রতা!
আমার চেয়ে কে বেশি সাম্যবাদী?
আমি দুনিয়ায় একমাত্র নিরপেক্ষ।
প্রভেদ করিনা
হিন্দু মুসলিম ধনী নির্ধন বাদী প্রতিবাদী।
খুন করাটাই আমার কাজ,
আমি কখনও করিনা বেইমানি।
সবাই জানে এ চরম সত্য, আমি চিরখুনি।
তবুও প্রশাসনে
আমার এতো কদর কেন, কি জানি?
দেশে দেশে আমার জন্য এত অস্ত্রাগার!
নিহতের মায়ের শুনেছি কত আর্তনাদ,হাহাকার।
আমার চিরলক্ষ্য মানুষের খুলি ও বুক।
তোমরা তো জানো,
আমার অন্যনাম রাইফেল-বন্দুক।
আমি একমাত্র সাক্ষী–
বলে দিতে পারি
কার হাতে ছিল পিস্তল,
কে পাঠিয়েছে
প্রতিবাদী লড়াকুকে রসাতল।
আমিই শহীদ বানাই,
আমিই বানাই মৃত্যুঞ্জয়ী।
তোমাদের স্মরণ শ্রদ্ধায়
আপ্লুত তাদের মৃত্যুদিন।
অথচ চির উপেক্ষার পাত্র আমি,
এত বড় স্বার্থহীন পেয়েছো কি
কোনোদিন?
তোমরা এতো কঠিন, হৃদয়হীন!
পার্টি নেই,কেক নেই,
কেউ কি জানে
কবে আমার জন্মদিন?









