কাঠি লজেন্সের জীবন
তমাল সাহা

আমাদের জীবন
সহজ সরল কাঠির লজেন্সের মতো।
কাঠি লজেন্স একটি উভলিঙ্গ লজেন্স।
কিশোর কিশোরী দুজনাই খেয়ে খুব উপভোগ করে।

কাঠি লজেন্স একটু একটু করে চুষে খাওয়ার মজাই আলাদা
ভেঙে খেলেই আসল মজা গুড়িয়ে যায়।
এটাই পৃথিবীর একমাত্র লজেন্স,খাওয়া শেষ হয়ে গেলেও কিছু অবশিষ্ট থাকে।
গাণিতিক ভাষায় যাকে বলে, ভাগশেষ।
অবশেষে থাকে যেটা সেটা হলো কাঠি।

আগে ছোটবেলায় স্কুলে ১৫ই আগস্টের দিন পতাকা উত্তোলনের পর আমাদের হাতে আনন্দের দিন হিসেবে একটা কাঠি লজেন্স হাতে তুলে দেওয়া হতো।
এখন এসব আর নেই।
সাধারণত স্কুলে আর স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয় না। বোধ করি স্বাধীনতা অনেক পুরানো হয়ে গিয়েছে, তার গুরুত্ব কমে গিয়েছে।

আমরা জানি
বড়রা তেমন লজেন্স-টজেন্স খায়না।
বড় বড় মেয়েরা এখন ব্ল্যাক ক্যাডবেরি খুব পছন্দ করে। তবে খেলেই শেষ, হাতে আর সেই মনোরম কাঠিটি থাকে না।

তখন কি আর তেমন ভালোবাসা-টালোবাসা বুঝতুম!
একসঙ্গে গাদি, কানামাছি, কুমির তোমার জলকে নেমেছি– খেলতুম
খেলাশেষে একটা কাঠি লজেন্স কিনে ও আর আমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেতুম।
তখন তো ওর আমার কারুর লালায় বিষ ছিল না!
এভাবে খাওয়া শেষ হয়ে গেলে আমরা সেই কাঠিটি একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখতুম।
ও বলতো, এই যাঃ, শেষ হয়ে গেল!

বোধ করি কাঠি লজেন্সে ভালোবাসার বিষ লুকিয়েছিল!