অবতক খবর,৪ জুলাই: ব্যারাকপুরে এত সন্ত্রাস! ঘরছাড়া কর্মীরা। কারোর বাড়ি ভাঙচুর,কারোর মা-বাবার উপর অত্যাচার,তো কেউ কেউ নিজেই অত্যাচার সহ্য করছেন। এত দুঃসময়েও হাতেগোনা কিছু বিজেপি কর্মীরা লড়াই করে গেছেন। যেভাবে শাসক দল তাদের উপর চড়াও হয়েছে,তাতে ২০২৬ এর নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী দেওয়া খুব মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে! তবে রাজনীতি কখন কি মোড় নেয় তা কেউ জানে না। কখন কি পরিবর্তন হবে,কোন নেতা কখন কোন দলে চলে যাবে তা বলা মুশকিল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পর গোটা রাজ্য হকার উচ্ছেদ চলছে। বাদ যায়নি কাঁচরাপাড়ার বিজেপির মন্ডল সভাপতি অমিত মন্ডলের দোকানও। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই তাঁকে ঘরছাড়া করা হলো, এলাকা ছাড়া করা হলো এবং তাঁর দোকানটিও ভাঙা পড়ল। এখন নিরুপায় হীরা মন্ডল। কিন্তু তিনি হার ছাড়েননি। তাঁর বাবা-মা পর্যন্ত মার খেয়েছেন তৃণমূল কর্মীদের হাতে। তবুও তিনি দল আঁকড়ে রয়েছেন।

এত অত্যাচারিত হয়ে আজ তিনি ছুটে গেলেন রাজ্যপাল সি.ভি.আনন্দ বোসের কাছে। তাঁর কাছে গিয়ে তিনি একের পর এক অভিযোগ জানান। তিনি দিনের পর দিন কিভাবে অত্যাচারিত হয়ে আসছেন তা সমস্ত কিছু তুলে ধরেন তাঁর কাছে। কিভাবে তাঁকে ভাড়া বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে, তিনি এলাকা ছাড়া এমনকি অন্য জেলায় বসবাস করছেন সেই সমস্ত ঘটনাবলী তিনি জানান রাজ্যপালের কাছে। তিনি জানান যে, তিনি একজন অতি সাধারণ বিজেপি কর্মী। পাশাপাশি কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা এবং তাঁর একটি পরিবার রয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি ঘর ছাড়া এবং তাঁর পরিবারকে সমস্ত অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয়েছে। নির্বাচনের আগে বহু চেষ্টা তৃণমূল করেছে তাঁকে দল পরিবর্তন করানোর। কিন্তু তিনি দলের সাথে বেইমানি করেননি।
অন্যদিকে হীরা মন্ডলের দাবি,কোন নোটিশ ছাড়াই তার দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পিতা সুধীর মন্ডলকে কোন নোটিশ নাকি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ বছর ধরে তাঁর সেই দোকান ছিল। এই দোকান থেকেই চলত তাঁর রুটি রুজি।

এই সমস্ত বিষয়ে আজ তিনি রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ আকারে জানিয়েছেন।

অপরদিকে হীরা মন্ডল জানান, রাজ্যপাল তাঁকে জানিয়েছেন তিনি খুব শিগ্রই এই রাজ্যে যে তালিবানি শাসন চলছে তার শেষ দেখবেন। পাশাপাশি ব্যারাকপুরের কমিশনার সহ বীজপুর থানার আইসিকে তিনি ইমেইল করে বিষয়টি জানাবেন। যাতে ঘর ছাড়া বিজেপি কর্মীদের ঘরে ফেরানো যায় এবং কোন অশান্তি না হয়।

সুতরাং দেখা গেল গোটা ব্যারাকপুরের মধ্যে অমিত মন্ডলই একমাত্র সমস্ত অভিযোগ নিয়ে আজ রাজ্যপালের কাছে গেলেন।