এক সময় তার সঙ্গে চলতি পথে প্রায়শই মৌলালি মোড়ে দেখা হতো। প্রথম লেনিন মূর্তি ভাঙ্গার পর আমি তার মত কবির সাথে শিশির মঞ্চে কবিতা পড়েছিলাম। কৃষ্ণনগরে গণ সংস্কৃতি পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে সে আমার ‘জামা’ কবিতা সিরিজ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছিল।
তার মৃত্যুদিনে বৃষ্টি হয়েছিল। আমি আর অর্ণব সেদিন গলফ গ্রিনে গিয়েছিলাম…

কবিতা লেখার পদ্ধতি
তমাল সাহা

শুদ্ধ ভাষায় কবিতা লেখো
কবিতার শরীর খুবই নরম
কোনো জোরালো বিধ্বংসী শব্দ দিয়ে কবিতা লিখবে না
কবিতা এসব শব্দ সহ্য করতে পারেনা
কবিতা মরে যাবে তো!
কবিতাকে বাঁচিয়ে রাখাই তোমার কাজ

পেটে মরা বাচ্চা নিয়ে এখন কবিতা লেখো
কবিতায় কাঁদো
চাষীরা আত্মহত্যা করুক
কবিতায় কাঁদো
প্রজন্ম পথে বসে থাকুক
তুমি মাথা নিচু করে দেখো
কিছু আবার লিখতে যেও না

লক আউট—
কারখানার পাশে মন্দির মসজিদ নিশ্চিত আছে।
ভিক্ষে করুক মজুরেরা,
ভিক্ষে করতে বাধা নেই
চালাফুটো জংধরা শুনশান পাঠশালাটি নিয়ে কবিতা লেখো
দেয়াল ফাটিয়ে এত দিনে ঝোপড়া হয়ে যাওয়া বটগাছটিকে দেখো
আর ইকোসিস্টেমের কবিতা লেখো
সাধু শব্দে কবিতা লেখো

কবিতার শরীর
নোংরা করার অধিকার নেই তোমার
বাছাই বাছাই শব্দে কবিতা লেখো
ডিনামাইটের শব্দে কবিতা লিখো না

রামপ্রসাদের ভিটেতে
পঞ্চবটিতলে পঞ্চমুণ্ডির আসনকে ঘিরে আজ কবিতা পাঠের আসর বসবে
জীবন কিছুই নয় রে পাগল!
গঞ্জিকা সেবনে আত্মা ধোঁয়া হয়ে উড়ে যায়
পানপাত্র হাতে কি দেখিস
ওখানে জীবন তো টলটলে তরল
পান করো রে, পান করো মন!

বীণা হাতে সরস্বতীর কবিতা লেখো
খড়্গহাতে উলঙ্গ কালীর কবিতা লিখো না
ছিন্নমস্তা ফিনকি দিয়ে রক্ত ওঠা কবন্ধ কালীর কবিতা লিখো না

কবিতা লেখো নির্জনে
মানুষের দিকে পেছন ফিরে কবিতা লেখো

মানব জীবন রইলো পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা!
ও মন! তুমি কৃষিকাজ জানো না