কবিতার শব/তমাল সাহা

এপারে শেষ বইমেলা ওপারে শুরু

বইমেলা চলছে, চারিদিকে বই আর বই!
কথা বলি নিজের সঙ্গে
বেঁচে আছি তো অনেকদিন
মানুষের সঙ্গ পেলাম কই?
মুক্ত গদ্যে প্রশ্ন করি নিজেকে, হায় দৈব!
বলে দাও আমাকে, আমি জৈব না অজৈব?

কবিতার শব
তমাল সাহা

অনটন কাকে বলে, তা শুধু কবিতা জানে।
কবিতা জীবনে প্রথম থেকেই মিথ্যের বেসাতি শুরু করে
কবিতা বৈধব্য দেখিয়ে বিধবা ভাতা নিয়েছিল
পরে বার্ধক্য দেখিয়ে বার্ধক্য ভাতাও নেয়
সংসারে কেউ নেই দেখিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও নিয়েছিল
আমার কবিতা শেষ পর্যন্ত মানসিক প্রতিবন্ধী বলে দরবার করেছিল।

আমার কবিতা বাগের খাল ধারে এক ছাউনিতে মরে পড়ে আছে কদিন ধরে।
পচা গন্ধ বেরুতেই নাকে কাপড় চাপা দিয়ে পড়শিরা থানায় গিয়েছে খবর দিতে।
পুলিশ এসেছে। ডোমেরা তুলে নিচ্ছে তার পচা দেহ।

আমি ভাবি কোন শব্দ লাগসই হবে
মরাদেহ মৃতদেহ মড়া লাশ অথবা শব!
আমার কবিতার পচা দেহে কেউ গাঁদা ফুল বা রজনীগন্ধায় সাজালো না। কোনো অগুরু গন্ধ চন্দন বা ধূপ নেই। ডোমেরা শুধু নাক মুখ কান চোখ খোলা রেখে কবিতাকে নিয়ে গেল নীরব।

পুলিশ জানালো শুধুমুধু এই দেহের কাটাছেঁড়া পোস্টমর্টেম করে কোনো লাভ নেই!
কি দরকার ঝামেলায় যাওয়া অত্তসব?

কবিতার দিকে চেয়ে থাকি
কবিতা বলেছিল,
তুমি দেখে নিও আগুন জ্বালবো একদিন
এখন কবিতা যাবে আগুনের দিকে।
কবিতা কাটিয়ে গেল বেশ্যাজীবী জীবন
আমরা নিংড়ে নিলাম তার সমস্ত শরীর
ওষ্ঠ নাভিমূল যোনি স্তন।

কবিতা লিখছি আমরা সেই কবে কাল থেকে, লিখবো আরো কতকাল
এখনো জানাতে পারিনি মানুষকে কবিতায় আমন্ত্রণ!
কবে আসবে সেই সকাল?