কবিতার শতাব্দী
তমাল সাহা

অমাবস্যার কালরাত্রি ভেদ করে
অন্ধকারের ভিতর বিধ্বস্ত অপমানিত
মানুষের মুখগুলি সামনে রেখে
আলোর মশাল হাতে উঠে আসে কবিতা,
তেজবান শব্দস্বর নির্দিষ্ট বিভঙ্গে
তার রূপ নির্মাণ করে।

বজ্রগর্ভী বিস্ফোরিত আওয়াজে বিধ্বংসী ঝড় তুলে
কবিতা ডানা মেলে দেয় প্রত্যয়ী উড়াল।
পৌরাণিক শব্দ সমূহ লৌকিক মাত্রা নিয়ে
উঠে আসে বাস্তবের সংঘর্ষ নির্মাণে।

দূর গ্রীস আরব দেশ থেকে
উঠে আসে শব্দ সমূহ
উঠে আসে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে–
এই সব শব্দের মেলবন্ধন ঘটিয়ে
কবিতা সোচ্চারে কথা বলে।
শতাব্দী পরও জেগে থাকে কলস্বর
চেতনার জাগরণে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।

অসাধারণ শব্দের বিন্যাস
বিদ্রোহের রুদ্ররোষে নটরাজের নৃত্যের ছান্দিক দোলায় আবর্তিত হতে থাকে কবিতার কন্ঠস্বর।

একটি কবিতা!
মাত্র একটি কবিতা প্রকম্পিত করে তোলে
দুনিয়ার আকাশ বাতাস
মাত্রাবৃত্ত মুক্তক ছন্দে
কবিতা ভেঙে দেয় সমস্ত অর্গল ও প্রতিবন্ধকতা।

‘মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি
ভূলোক, দ্যূলোক, গোলক ভেদিয়া
খোদার আসন আরশ ছেদিয়া
উঠিয়াছে চির বিস্ময়,
আমি বিশ্ব বিধাত্রীর’—
ঋজু দার্ঢ্য উচ্চারণে উত্থান ঘটিয়ে
বায়ুমন্ডল আলোড়িত করে
উড়ে যায় বিদ্রোহী কবিতার আগুন পাখি।

একশো সাতচল্লিশ বার ‘আমি’
স্বঘোষিত উচ্চারণে দীপ্ত কবিতা
পূর্ণাঙ্গ শরীর নিয়ে আবির্ভূত হলে
দেখা যায় কবিতার
আগ্নেয় অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বিন্যাস।
বিদ্রোহী সত্তায় চেতনার জাগরণ ঘটিয়ে
কবিতা আমাদের হাতে তুলে দেয়
বিজয় ভৈরবী গান।

পূর্ব দিগন্ত লাল হয়ে ওঠে
ছুটে চলে হিরন্ময় রৌদ্রের ভেতর
সজীব শ্বাস প্রশ্বাস।
বৈশ্বিক মানবতা বিজয়ের এক আনন্দ উল্লাস।

কবি ও কবিতা পরিপূরক, একাকার—
শাব্দিক আয়োজনে দুর্জয় ঘোষণা।
পৃথিবীর বিরলতম দৃষ্টান্ত
বিশ্বসাহিত্যে এক অতুলনীয় ঐতিহাসিক ঘটনা।

বিদ্রোহ হয়ে গিয়েছে কবিতা
কবি হয়ে গেছে বিদ্রোহী
কবির নামেই জুড়ে গেছে কবিতার নাম
কবি ও কবিতাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।