একটি চিঠি/তমাল সাহা

ভারতবর্ষের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য আজকের তারিখটি:
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত

একটি জন্মদিন আর তিনটি মৃত্যুদিন একাকার হয়ে গিয়েছে ১২ জানুয়ারি। এদিন স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন এ কথা সকলেই জানে। কিন্তু এদিনই জালালাবাদ পাহাড়ের যোদ্ধা , চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের নায়ক মাস্টারদা সূর্যসেন এবং তারকেশ্বর দস্তিদার ফাঁসির মঞ্চে শহীদের মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
আজই হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্পে রাজনৈতিক বন্দি হত্যার প্রতিবাদে ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাসকে হত্যায় অভিযুক্ত বিপ্লবী প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্যের ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ বিসর্জন দেন। তার বয়স ছিল মাত্র কুড়ি বছর!
আজকের দিন তাই মহান আত্মবলিদান দিবস।

কচি নামটি শুনে আমি আশ্চর্য হয়ে যাই। কচি-রা মায়ের কাছে চিঠি লেখে। কেমন ছিল সে চিঠি, যে চিঠি আমাদের পড়তে বাধ্য করে। এই চিঠিই যুগপৎ হৃদয়ে সাহস যোগায় আর নীরবে চোখ দিয়ে অশ্রু গড়ায়। কচি চিঠি লিখেছিল তার মায়ের কাছে এবং বৌদির কাছে। তার চিঠির একটি ভাব আমার নিজের প্রচেষ্টায়…

একটি চিঠি
তমাল সাহা

মা! তুমি মনে করো তোমাকে অত্যাচার করছে কেউ আর আমি সামনে দাঁড়িয়ে আছি। খোলা দৃষ্টিতে তা দেখেই চলেছি। আমার কোনও বিরুদ্ধ প্রতিক্রিয়া নেই। আমি তখন পণ্ডিতি প্রজ্ঞায় ভাবছি এভাবে পাল্টা হত্যায় কাজ হবে না, এটা তো আইনবিরুদ্ধ কাজ হবে বা ভাবছি হত্যার পাল্টা হত্যা নিয়ে কাগজে একটা প্রবন্ধ লিখব। ততক্ষণে তুমি ভেবে ফেলেছ ছেলেটা আমার খুব মস্তিষ্কবান ধীর স্থির বুদ্ধিমান। অথচ বুঝতে পারছি তুমি নীরবে বলে চলেছ এ কোন সন্তান আমি গর্ভে ধারণ করেছি। তোমার হৃদয় তখন পুড়ে যাচ্ছে। তুমি ভাবছো এমন ছেলেকে জন্ম দিলাম কেন? একে বুকের দুধ না দিয়ে কেন বিষ খাইয়ে এই ক্লেদ মাংসপিণ্ডটাকে মেরে ফেলিনি!

জেল কুঠুরি থেকে কচি বৌদিকে লিখলো, পুনর্জন্মে মৃত্যুর পরিগ্রহে বিশ্বাস আছে। আমি আবার ফিরে আসবো। ন হি কল্যাণকৃৎ কশ্চিদ্দুর্গতিং তাত গচ্ছতি।

ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে ম্যাজিস্ট্রেট বার্জকে কচি বলেছিল, এরপর তোমার পালা। আর কি বলেছিল? আমার প্রতিটি রক্ত বিন্দুতে শত শত প্রদ্যোত জন্মাবে।

মাকে কচি আরো লিখল, ফাঁসির কাঠটা আমার কাছে ইংরেজের রসিকতা বলে মনে হয়।
কচি ভাবনার ব্যাপকতায় বলল, আমি বাঙালি মানে ভারতবাসী। তুমি বাংলা মানে ভারতমাতা, তুমি অত্যাচারিত লাঞ্ছিত কিন্তু তোমার হৃদয়ে বয়ে চলেছে অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মতো বিদ্রোহের স্রোত, আমি সেই মূর্তিমান বিদ্রোহী।

আমি আশ্চর্য হয়ে ভাবতে থাকি প্রদ্যোৎ মানে কি? আর কচি মানেই বা কী! প্রদ্যোৎ! কচি! কচি! প্রদ্যোৎ শব্দ দুটি আমার মাথায় খেলা করতেই থাকে…