অবতক খবর,১৫ অক্টোবরঃ আজ বড়ো সাফল্য ভারতের:আইএনএস অরিহন্ত থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার কে-৪, কে-১৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার ফলে চিন এবং পাকিস্তানের অনেকগুলি বড় শহর ভারতের ‘পরমাণু হামলার’ আওতায় এসেছে।ভারতে তৈরি প্রথম পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ (নিউক্লিয়ার সাবমেরিন) আইএনএস অরিহন্ত থেকে পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম দু’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষায় সফলতা লাভ করলো নৌসেনা, যা প্রতিরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি থেকে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরের গভীরে অরিহন্ত থেকে ছোড়া ‘ডুবোজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ (সাবমেরিন লঞ্চড্ ব্যালিস্টিক মিসাইল) পূর্বনির্ধারিত নিশানায় নিখুঁত ভাবে লক্ষ্যভেদে সফলতা অর্জন করেছে।কে-১৫ এবং কে-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে মাটি বা জলে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করা সম্ভব।
কে-১৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র :
ভারতে তৈরি কে-১৫ সাবমেরিন লঞ্চড্ ব্যালিস্টিক মিসাইলটি সাগরিকা এবং বি-০৫ নামেও পরিচিত। ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ‘পো লোড’ হিসাবে ১,০০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক বহন করতে পারে।প্রয়োজনে পরমাণু অস্ত্রও বহনেও সক্ষম কে-১৫।‘ডুবোজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য’, কঠিন জ্বালানি চালিত এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ৭.৫ ম্যাক (প্রায় ৯,১৯০ কিলোমিটার) গতিবেগে আঘাত হানতে পারে শত্রুশিবিরে।
কে-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র :
৩.৫০০ কিলোমিটার পাল্লার কে-৪ ভারতে তৈরি কে সিরিজের সেরা ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম।ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থা-র তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করে ‘ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড’।
সামাজিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, বর্তমানে পরমাণু অস্ত্রবাহী ‘ডুবোজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য’ দু’টি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার ফলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনা নৌবাহিনীর মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌসেনা অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানেই রয়েছে।
পরমাণু চালিত অরিহন্তের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে শত্রুপক্ষের সেনার নজরদারি ফাঁকি দিয়ে তাদের জলসীমায় ঢুকে আঘাত হানতে সক্ষম ভারতীয় নৌসেনা।
পাশাপাশি আইএনএস অরিহন্তের এই সফল ক্ষেপণাস্ত্র হানাদারির পরীক্ষা ভারতীয় সামরিক বাহিনীর মর্যাদাকে অনেকটা বাড়িয়ে দিল বলে মনে করে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। বস্তুত, অরিহন্তের হাত ধরেই ভারতের ‘পরমাণু ত্রিশূল’(স্থল, জল এবং অন্তরীক্ষ থেকে পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতাকেই ‘পরমাণু ত্রিশূল’ বলা হয়) সম্পূর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়ার শেষ হল।

আইএনএস অরিহন্ত থেকে পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মারণক্ষমতাকে নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা দিল।তবে আবারো প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে ভারতের নীতিপরায়ণতার দিকটি প্রকাশ পেলো, অর্থাৎ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতির প্রতি ভারত এখনও দায়বদ্ধ’









