বিনয় ভরদ্বাজ,অবতক খবর, 6ই আগস্ট :: আজ আর কয়েক ঘন্টার পর মুর্শিদাবাদ সাংসদ এবং জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খানের হাত ধরে দলে ফিরতে চলেছেন বেলডাঙার দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুন কবীর জানান যে দলে যোগদান করার জন্য মানসিকভাবে মার্চ মাসের আগেই ফয়সালা করি কিন্তু লকডাউন হয়ে যাওয়ার ফলে এতদিন ধরে দলে যোগদান পর্ব আটকে পড়েছিল।

উল্লেখ্য বেলডাঙ্গা এই দাপুটে নেতা ছিলেন বহরমপুর কংগ্রেস নেতা ও সাংসদ অধীর চৌধুরীর প্রিয় পাত্র। তাকে আঁকড়ে ধরে রাখতেন কংগ্রেসী নেতারা 2011 তে প্রথমবার সিপিএম ও তৃণমূলকে হারিয়ে তিনি রেজিনগর থেকে কংগ্রেসের বিধায়ক হন কিন্তু এক বছরের মধ্যে তিনি অধীর চৌধুরী সঙ্গ ত্যাগ করে তৃণমূল শিবির সামিল হন।
দলবল নিয়ে তিনি অধীর চৌধুরীর গড়ে ভাঙ্গন ধরিয়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন। বিধায়কের এই দলবদলের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে মন্ত্রী পদে পুরস্কৃত করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদে অধীরের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে চুরমার করে ও দলকে আরও সংগঠিত করার জন্য হুমায়ুন কবীরকে দায়িত্ব দেন।

2014 সাল লোকসভার নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারেননি হুমায়ুন কবীর। লোকসভা নির্বাচনে তার গুরু অধীর চৌধুরীকে ভেতর ভেতর মদত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের ফল খারাপ হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাপুটে সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীকে মুর্শিদাবাদ তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক করে পাঠান।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের গন্ডগোল ও বাকযুদ্ধ বেঁধে যায়। জেলার পর্যবেক্ষকের সঙ্গে এই বিবাদের খেসারত দিতে হয় তাকে। তৃণমূল তাকে 2015 সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দল থেকে বহিষ্কৃত করে। শুভেন্দু অধিকারীকে উচিত শিক্ষা দিতে 2015 তে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হন ও তার এই পদক্ষেপের ফলে কংগ্রেস প্রার্থী জয়ী হন।
তৃণমূলকে হারানোর জন্য অধীর চৌধুরীকে সহযোগিতা করার জন্য অধীর বাবু আবার হুমায়ুন কবীরকে 2016 সালে তাকে নিজের দলে টেনে নেন। হুমায়ুন কবীর আবার কংগ্রেসে ফিরে আসেন।

2018 সালে মুকুল রায়ের আহ্বানে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। জাঁকজমকভাবে উৎসব করে সারা রাজ্য ও দিল্লিতে ঘন্টা বাজিয়ে কৈলাশ বিজয় বর্গীর হাত ধরে হুমায়ুন গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন।
বিজেপিতে যোগদান করায় পুরস্কৃত হন তিনি। 2019 এ লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র থেকে তাকে বিজেপি প্রাথী করে। মুর্শিদাবাদ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি হয়ে দাঁড়ালেও তিনি তেমন কোন সুবিধে করতে পারেননি। কট্টর হিন্দুত্বের তকমা লাগিয়ে তিনি বেশিদিন বিজেপির সঙ্গে ঘর করতে পারেননি। অবশেষে তিনি বিজেপিকে গুডবাই জানিয়ে দেন।
বিজেপি দলকে গুডবাই জানিয়ে তিনি দরগা শরীফ শান্তির জন্য চলে যান। সেখানে তিনি মনস্থির করেন যে তিনি তার রাজনৈতিক ভুল শুধরে নিয়ে তিনি তার পুরনো দলে ফিরে যাবেন।

হুমায়ুন কবীর জানান যে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি আমার নেত্রী তাই যতদিন বাঁচবো তৃণমূল করবো আর দলের জন্য কাজ করব। তাদের দলে ফিরে আসাতে মুর্শিদাবাদ তৃণমূলে খুশির হওয়া। হুমায়ুন কবীরের তৃণমূলে যোগদান বিজেপির পক্ষে বড় ভাঙ্গন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও মুর্শিদাবাদে একের পর এক ভাঙ্গন ধরিয়ে চলেছেন তৃণমূলের নেতারা। সৌমিক হোসেনের হাত ধরে ঈদের আগে বিজেপি এবং কংগ্রেস থেকে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক তৃণমূলে যোগদান দেন। এরপর হুমায়ুন কবিরের আজ তৃনমূলে যোগদান বিজেপির পক্ষে বিশাল বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।









